দেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর ঘটনার শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের উপসর্গ থাকলে সেই মৃত্যুর কারণও হাম হিসেবে গণ্য করা উচিত।
সম্প্রতি ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ইমুনাইজেশন অ্যান্ড টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ (নাইট্যাগ) ও ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটি (এনভিসি)-এর যৌথ সভায় এ মতামত উঠে আসে। সভায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, যেসব শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে, তাদের মৃত্যু হামের কারণেই হয়েছে বলে বিবেচনা করা উচিত।
তেলবাহী পদ্মা ট্রাঙ্ক লড়ি থেকে ডিজেল চুরির অভিযোগ, আটক ২
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মৃত্যুর ক্ষেত্রে ‘নিশ্চিত’ ও ‘সন্দেহজনক’—এই দুই ভাগে বিভাজন করছে। যেসব ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে, সেগুলোকে নিশ্চিত মৃত্যু বলা হচ্ছে। আর যেসব ক্ষেত্রে পরীক্ষা সম্ভব হয়নি, সেগুলোকে সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বিভাজনের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, সব আক্রান্ত শিশুর নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত পরিস্থিতি আড়ালে থেকে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র কিছু মৃত্যুকে বলছে নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু; আর বলছে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের উপসর্গ থাকলে সবই হাম রোগে মৃত্যু।আরো পড়ুন
চবিতে সরস্বতী জ্ঞান মন্দির উদ্বোধন করলেন অর্থমন্ত্রী
টিকা বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দিতে জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ কারিগরি কমিটি হলো নাইট্যাগ; আর রোগ শনাক্তকরণের যেসব ব্যবস্থা দেশে আছে, সেগুলোর মান ও সক্ষমতা যাচাই করে এনভিসি।
নাইট্যাগের চেয়ারপারসন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এনভিসির চেয়ারপারসন ও রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমানসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তা এবং ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছিল, হামে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ এপ্রিল বলা হয়, সন্দেহজনক হামে মৃত্যু ৩২ এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু ২। এ ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে পাঠকের বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ আছে।
যেসব মৃত শিশুর নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নিশ্চিত মৃত্যুর কথা বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; কিন্তু হামে আক্রান্ত সব শিশুর নমুনা পরীক্ষা করতে পারছে না।
তাদের ক্ষেত্রে অধিদপ্তর বলছে, সন্দেহজনক হামে মৃত্যু।
গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের দেওয়া তথ্য বলছে, এ বছর সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১৯৪ জনের এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু ৩৯ জনের। যদিও প্রকৃত পক্ষে হামে এ বছর ২৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (উন্নয়ন) অধ্যাপক ফোয়ারা তাসমীন বলেন, ধরেই নেওয়া যায়; এখন পর্যন্ত যারা মারা গেছে, তাদের সবাই হামে আক্রান্ত ছিল; কিন্তু ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ব্যতীত এটা বলা উচিত না যে সবাই হামেই মারা গেছে। ১০০ জনের মধ্যে হয় তো একজনের মৃত্যুর কারণ হাম ছিল না। পরীক্ষা করা যায়নি বলে সেই একজনের মৃত্যুকে হামে মৃত্যু বলা উচিত নয়।
তবে নাইট্যাগ ও এনভিসির যৌথ সভায় উপস্থিত একজন জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ বলেন, হামের উপসর্গ যাদের দেখা দেয় বা উপসর্গ নিয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, তারা হামের রোগী। তাদের মৃত্যু হামেই হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন বলেন, হামের উপসর্গ থাকলেই তাকে হামের রোগী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। মৃত্যুর ক্ষেত্রে ‘সন্দেহজনক’ শব্দ ব্যবহার করলে মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হয় এবং এতে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা জন্ম নিতে পারে। তিনি বলেন, বিভ্রান্তি প্রাদুর্ভাব বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সঠিক ও স্বচ্ছ তথ্য প্রদান অত্যন্ত জরুরি। বিভ্রান্তি দূর না হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।










































