লুহানস্ক হামলায় ইউক্রেনকে দায়ী করলেন পুতিন, প্রতিশোধের হুশিয়ারি

ছবি : রয়টার্স

রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা পূর্ব ইউক্রেনের স্টারোবিলস্ক শহরের একটি কলেজ হোস্টেলে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২২ মে) ভোরের এই হামলায় ২১ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ৪২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে রাশিয়া।রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একে সন্ত্রাসী হামলা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সেখানে কোনো সেনা বা গোয়েন্দা ঘাঁটি ছিল না। তাই আমাদের বিমান বাহিনী ভুল করে এই ভবনে আঘাত করেছে—এমন কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।

পুতিন এই হামলার জবাবে ইউক্রেনকে কঠিন শাস্তি দেওয়ার জন্য তার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।এমনকি ক্রেমলিনের কিছু কর্মকর্তা এই অপরাধের জন্য ইউরোপের ওপরও পাল্টা হামলার দাবি তুলেছেন। এই ঘটনা নিয়ে এখন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখা গেছে, স্টারোবিলস্ক প্রফেশনাল কলেজের পাঁচতলা ভবনটি পুরোপুরি ভেঙে ধ্বংসস্তূপ হয়ে গেছে। শনিবার (২৩ মে) গভীর রাতে সেখানে উদ্ধার কাজ শেষ করা হয়। হাসপাতাল থেকে ওলগা কোভালেভা (২১) নামের এক কলেজ ছাত্রী জানান, হামলার পর তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলেন, পরে উদ্ধারকারীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করেন। টেলিভিশনগুলোতে নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের নাম ও জন্মতারিখ প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এই দাবি অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে তারা ওই এলাকায় একটি হামলা চালিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেটি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নয়, বরং রাশিয়ার একটি সেনা ঘাঁটির ওপর করা হয়েছিল। এই ঘটনা নিয়ে শুক্রবারই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক বসে।সেখানে রাশিয়ার প্রতিনিধি ভাঙা কলেজের ছবি দেখিয়ে এটিকে যুদ্ধাপরাধ বলে দাবি করেন। এর জবাবে ডেনমার্কের প্রতিনিধি বলেন, এই একটা ঘটনার জন্য যদি জরুরি বৈঠক ডাকতে হয়, তবে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়া প্রতিদিন যেভাবে বোমাবাজি ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে—তার জন্য সপ্তাহে প্রতিদিন দুইবার করে জরুরি বৈঠক ডাকা উচিত।

সূত্র : বিবিসি

LEAVE A REPLY