বিদ্যুৎ বিতরণে শহর-গ্রামের বৈষম্য দূর করার দাবি ক্যাবের

সংগৃহীত ছবি

বিদ্যুৎ বিতরণে শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সেবা নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে এমন তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২ জুন) এক বিবৃতিতে ক্যাবের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অথচ যেসব গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপানোর কথা বলা হচ্ছে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার সেই গ্রাহকরা নিয়মিত বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন না। অনেক এলাকায় ১৫ মিনিট বিদ্যুৎ থাকার পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে।

এস এম নাজের হোসাইন বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ১২ মে এবং ঈদের সময় ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও মাতামুহুরী এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তিনি গ্রামীণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখেছেন। তাঁর দাবি, মাতারবাড়ী থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও মহেশখালীর মানুষ দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকছেন।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যাপ্ত এবং লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন নেই বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীনতার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছে।ঈদের ছুটিতে অনেক জেলা ও বিভাগীয় শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামীণ এলাকাগুলোতে ভোগান্তি ছিল বেশি।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাধীন এলাকায় সামান্য বৃষ্টি বা ঝড় হলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ফিরতে কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লাগে। শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেওয়া হলেও মানসম্মত ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে না ওঠায় গ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।

ক্যাবের এই নেতা বলেন, বর্তমানে দেশের ৪৬২টি উপজেলায় ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ৩৭ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইনের আওতায় ৩ কোটি ৬০ লাখ গ্রাহককে সেবা দেওয়া হচ্ছে।প্রায় ৪০ হাজার জনবল নিয়ে সংস্থাটি দেশের প্রায় ৫৮ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব পালন করছে। তবে অবকাঠামোগত দুর্বলতা, জনবল সংকট, ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা এবং নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে গ্রামীণ গ্রাহকরা বিদ্যুতায়নের পূর্ণ সুফল পাচ্ছেন না।

বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সংস্কার, অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং শহর-গ্রামের বৈষম্য দূর করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ক্যাব সহ-সভাপতি।

LEAVE A REPLY