ছবি : রয়টার্স
প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামসহ প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এ ছাড়া সরকার শিশুদের তথাকথিত ‘নিরাপদ’ ওয়েবসাইটে লাইভস্ট্রিম করা এবং গেমিং অ্যাপে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও সীমিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে।
সরকারের তিন মাসব্যাপী পরামর্শ পর্ব শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহ পর আজ সোমবার এই ঘোষণাটি এসেছে। সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জনগণের মতামত চাওয়ার পাশাপাশি, এতে কম কঠোর কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।
এর মধ্যে ছিল ইনফিনিট স্ক্রল ও অটোপ্লের মতো আসক্তি সৃষ্টিকারী ফিচারগুলো বন্ধ করা, বয়স যাচাই প্রক্রিয়া আরো জোরদার করা এবং এআই চ্যাটবটের ব্যবহার সীমিত করা। জরিপটিতে মোট এক লাখ ১৬ হাজার উত্তর পাওয়া গেছে।
উত্তরদাতা অভিভাবকদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং ৮৩ শতাংশের বেশি বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার ঝুঁকির তুলনায় এর সুবিধা কম।
শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নির্দিষ্ট সময়সীমা চালু করা হবে কি না, তাও মন্ত্রীরা বিবেচনা করছেন। তবে এ বিষয়ে আগামী মাসের আগে বিস্তারিত জানানো হবে না।
এর আগে অস্ট্রেলিয়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বলেন, ‘এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যেখানে আমাদের ঠিক করতে হবে আমরা কার পাশে থাকব। দেশের পরিবারগুলোর পাশে, না কি এমন একটি ব্যবস্থার পাশে, যা কাজ করছে না।’
তিনি আরো বলেন, শিশুদের ব্যর্থ করে দিচ্ছে এমন বর্তমান ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে তিনি পদক্ষেপ নেবেন। যদিও এক সরকারি জরিপে দেখা গেছে, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পক্ষে বেশিরভাগ মানুষের সমর্থন রয়েছে, তবে কিছু অধিকারকর্মী মনে করেন, এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নতুন সমস্যারও সৃষ্টি করতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় যেসব ১০টি প্ল্যাটফর্ম ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষিদ্ধ, সেগুলোর ওপরই যুক্তরাজ্যেও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।এর মধ্যে রয়েছে টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, রেডিট, টুইচ, এক্স, থ্রেডস, ফেসবুক ও কিক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স্ক কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ এবং এআই চ্যাটবট ব্যবহারে বিধিনিষেধসহ কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য অস্ট্রেলিয়ার চেয়েও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বলেন, ‘অনলাইনে শিশুদের কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, এটি আমাদের সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন বাবা হিসেবে আমি জানি, প্রতিটি অভিভাবকই চান তাদের সন্তান নিরাপদ ও আনন্দের সঙ্গে বেড়ে উঠুক।’
এদিকে যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি বিবিসিকে বলেন, প্রযুক্তি কম্পানিগুলোকে নিজেদের ব্যবস্থা ঠিক করার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কী ঘোষণা দেবেন সে বিষয়ে তিনি আগাম মন্তব্য করতে চান না। তবে এখন প্রশ্ন হলো, শিশুদের অনলাইনে ভালোভাবে সুরক্ষিত করা হবে কীভাবে?’
তিনি উল্লেখ করেন, জনপরামর্শে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ব্যাপক সমর্থন দেখা গেছে। লিসা ন্যান্ডি আরো বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় দেখা গেছে কিছু কিশোর-কিশোরী বিধিনিষেধ এড়ানোর বিভিন্ন উপায় খুঁজে বের করেছে।’ তবে তার মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ সামাজিক আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
তিনি বলেন, ‘৮, ৯, ১০ বা ১১ বছর বয়সী শিশুরা তখন আর ধরে নেবে না যে, শুধু তাদের বন্ধুরা সেখানে আছে বলে তাদেরও এসব প্ল্যাটফর্মে থাকতে হবে।’









































