সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রত্যাশিত আলোচনাকে ঘিরে এখনো সতর্কতা ও অনিশ্চয়তার সুর শোনা যাচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন হ্রদের তীরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, এই আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডে তার নির্ধারিত সফর স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি এখনো সপ্তাহান্তে সুইজারল্যান্ড সফরের প্রত্যাশা করছেন।
মধ্যস্থতাকারী দলের কয়েকটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, আলোচনা পুরোপুরি বাতিল হয়নি, বরং তা আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অনিশ্চয়তার মধ্যেও প্রস্তুত সুইজারল্যান্ড
একই ধরনের বার্তা এসেছে সুইস কতৃপক্ষের কাছ থেকেও। শুক্রবার দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার পরবর্তী ধাপ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, নির্ধারিত বৈঠক আপাতত না হলেও সুইজারল্যান্ড এই আলোচনা আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
এর জন্য দেশটির লুসার্ন হ্রদের তীরে অবস্থিত বিলাসবহুল রিসোর্ট বুর্গেনস্টকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ এখনো চলমান রয়েছে।এ মুহূর্তে এর বেশি কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে আলোচনাটি কবে অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে এখনো নতুন সময়সূচি জানানো হয়নি। ফলে চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
৬০ দিনের সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন
স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত করা হয়নি। এসব বিষয়ে সমাধানে উভয় পক্ষকে ৬০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু নির্ধারিত আলোচনা পিছিয়ে যাওয়ায় সেই প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যাওয়ার কথা ছিল। দেশটির বৃহত্তম শহর জুরিখ থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত ওই স্থানে শুরুতে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটি কারিগরি আলোচনায় রূপ নেয়।
তবে এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটনে অবস্থানরত ভ্যান্স হঠাৎ করেই সফর বাতিল করেন।
কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র?
কারিগরি পর্যায়ের আলোচনার পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রতিনিধিদল সেখানে রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। তবে এ ধরনের আলোচনার লজিস্টিক ও আয়োজন কখনোই সহজ বা পুরোপুরি পূর্বানুমানযোগ্য ছিল না।’
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, আলোচনা বাতিল না হয়ে কেবল স্থগিত হওয়ায় সমঝোতা প্রক্রিয়া এখনো জীবিত রয়েছে। তবে নতুন তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।











































