বখাটের হেনস্তা, বিয়ের আগের দিন বাবা-মাসহ হবু কনের আত্মহত্যা

প্রতীকী ছবি

একদিন বাদেই মেয়ের বিয়ে। নানা আনন্দ আয়োজনে যখন উৎসবমুখর থাকার কথা, তখনই বাড়িটি ঢেকে গেছে শোকের চাদরে।রাতারাতি বিয়ে বাড়ি বদলে গেছে মরা বাড়িতে। বখাটের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে হবু কনে, তার বাবা-মাসহ পরিবারের তিন সদস্যই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

সোমবার ভোররাতে ভারতের কর্ণাটকের মহীশুর জেলায় ঘটেছে মর্মান্তিক এ ঘটনা। মেয়েটির বিয়ে হওয়ার কথা ছিল আগামীকাল মানে বুধবার।খবর পেয়ে বাসা থেকে ২১ বছর বয়সী রক্ষিতা, তার পিতা শিবান্না (৫০) এবং মা নাগারথনা (৪৫) এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারটির বাস ছিল নরসীপুরা তালুকের হালেকেম্পায়ানাহুন্ডি গ্রামে।

একই গ্রামের বাসিন্দা বখাটে উল্লাস গৌড়া রক্ষিতাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু পরিবার তাতে রাজি হয়নি।অন্যত্র বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকে উল্লাস গ্রামে আজেবাজে কথা ছড়াতে থাকে। দাবি করে তার সঙ্গে রক্ষিতার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রমাণ হিসেবে ছবি ও মেসেজ আছে বলেও দাবি করেন তিনি। বখাটে উল্লাসের এই কর্মকাণ্ডে চরম মানসিক চাপ তৈরি করে একমাত্র সন্তানের বিয়ে আয়োজনে ব্যস্ত থাকা পরিবারটির ওপর। রবিবার রাতে তারা উল্লাসকে ডেকে মোবাইল থেকে ছবি ডিলিট করার অনুরোধ জানান।উল্লাস তাদের সামনে ছবি ডিলিটও করেন। কিন্তু বখাটে উল্লাস কথা রাখেনি। গোপনে মোবাইলে কিছু ছবি রেখে দিয়েছিলেন। রক্ষিতাদের বাড়ি থেকেই বেরিয়েই উল্লাস এডিট করা কিছু ছবি আর মেসেজ পাঠিয়ে দেন হবু বরের কাছে। উদ্বিগ্ন বরের পরিবারের সদস্যরা রাতেই ছুটে আসেন রক্ষিতাদের বাসায়। তারা উল্লাসের পাঠানো ছবি, মেসেজ নিয়ে তাদের জেরা করেন এবং উল্লাসের সঙ্গে রক্ষিতার সম্পর্ক নিয়ে জানতে চান।

উল্লাসের ধারাবাহিক হেনস্থা, বরের পরিবারের জেরা, মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা, সামাজিক অপমান ও মর্যাদাহানীর শঙ্কা— সব মিলে প্রবল এই মানসিক চাপ আর নিতে পারেনি পরিবারটি। রাত পোহানোর আগেই বিষ খেয়ে সব দুশ্চিন্তার অবসান ঘটান পরিবারের তিন সদস্য। পুলিশ তিনজনের মরদেহের সঙ্গে একটি সুইসাউড নেটা পেয়েছে, যাতে তাদের মৃত্যুর জন্য উল্লাস গৌড়াকে দায়ী করা হয়েছে। পুলিশ উল্লাসকে গ্রেপ্তার করেছে। পুরো পরিবার এক সঙ্গে আত্মহত্যা করায় শূন্য হয়ে গেছে বাড়িটি। মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 


LEAVE A REPLY