থাইল্যান্ডে স্কুলে গুলি : হামলার আগে দাদা-দাদিকে হত্যা করে কিশোর

ছবি : রয়টার্স

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি স্কুলে শুক্রবার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর গুলি চালিয়ে তার দাদা-দাদিসহ অন্তত ছয়জনকে হত্যা করেছে। পরে সে নিজেও আত্মহত্যা করে।২০২২ সালের পর দেশটিতে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার ঘটনা।

পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলটিতে হামলার আগে ওই কিশোর তার দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর সে ননথাবুরির দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে গিয়ে গুলি চালিয়ে আরো ৬ জনকে হত্যা করে।

থাইল্যান্ডের শিক্ষামন্ত্রী প্রাসের্ত জানতারারুয়াংতং রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামলায় নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, উভয়ই ছিলেন।পুলিশ নিশ্চিত করেছে, হামলাকারীও ওই স্কুলের একজন ছাত্র। 

হামলার সময় স্কুল থেকে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে দলে দলে বেরিয়ে আসে। আহতদের দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় অনেক শিক্ষককে কান্নায় ভেঙে পড়তে এবং একে অপরকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়।জরুরি সেবাকর্মীদের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, একজন আহত ব্যক্তি অ্যাম্বুল্যান্সের বাইরে স্ট্রেচারে শুয়ে আছেন এবং আরেকজনকে স্বাস্থ্যকর্মীরা চিকিৎসা দিচ্ছেন।

এ বছর থাইল্যান্ডে এটি দ্বিতীয় স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে গুলিতে একজন শিক্ষক নিহত এবং একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন। জরুরি সেবাকর্মী কিয়াতিখুন ভেরাপংপ্রাদিথ জানান, গুলির ঘটনা চলাকালেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তার দল পিঠ, বুক ও হাতে গুলিবিদ্ধ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেয়।

তিনি বলেন, স্কুলের ওপরের তলায় একজন পুরুষ শিক্ষককে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আরেকটি কক্ষে এক নারী শিক্ষককে বুক ও হাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কিয়াতিখুন আরো  জানান, শেষ গুলির শব্দ শোনার পর তারা হামলাকারীর কাছে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, কিশোরটি নিজের মাথায় গুলি করে মাটিতে পড়ে আছে। তখনো তার নাড়ির স্পন্দন ছিল। পরে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা হিসেবে জরুরি সেবাকর্মীরা সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) শুরু করেন। এরপর সন্দেহভাজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি জানান। তবে তার মৃত্যু হয়।  

জেলা কর্তৃপক্ষের মতে, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে স্কুলটিতে প্রায় তিন হাজার ১০০ জন শিক্ষার্থী এবং ১৪৭ জন শিক্ষক ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ রকম একটি ঘটনা ঘটা খুবই ভয়াবহ। যারা মারা গেছেন তাদের জন্য আমি দুঃখিত এবং আমাদের দেশে এমন একটি ঘটনা ঘটায় আমি মর্মাহত।’

LEAVE A REPLY