বিজয় সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে সাংবাদিক জড়িত!

বিজয় থালাপাতির নেতৃত্বাধীন তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন সরকারকে হটাতে ষড়যন্ত্রের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মাসের শেষ দিকে এ ষড়যন্ত্র ফাঁস হওয়ার পর তদন্তে নামে চেন্নাই পুলিশের একটি বিশেষ তদন্ত দল।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজন সিনিয়র টেলিভিশন সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তে তামিলনাড়ুর আগের ক্ষসতাসীন দল ডিএমকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সাবেক মন্ত্রী ও ডিএমকে নেতা সেন্থিল বালাজি ও তার ভাই অশোক বালাজিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে চেন্নাই পুলিশ।

সিনেসার নায়ক থেকে জননায়ক বনে যাওয়া জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, যিনি থালাপাতি বিজয় নামে পরিচিত, গত ১০ মে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।পরের মাসেই তার সরকারকে উৎখাত করতে একটি ষড়যন্ত্র শুরু হয়। সমীক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ইউটিউবার তিরুনাভুক্কারাসুকে সামনে রেখে বিজয় সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র সাজানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য ও তাদের বিভিন্ন ডিভাইসের ফরেনসিক করে পুলিশ জানতে পেরেছে এ ষড়যন্ত্রের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘প্রজেক্ট মেঘালয়া’। ষড়যন্ত্রের মূল প্লট ছিল অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিজয়ের দল টিভিকের অন্তত ১৫ জন বিধায়ককে কিনে ফেলা।ফ্লোর ক্রসিঙের আইনী জটিলতা এড়াতে সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা না এনে প্রথমে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এরপর ১৫ জন বিধায়ক একসঙ্গে পদত্যাগ করলে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতো।

গত নিবাচনে ১০৮টি আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় টিভিকে। তবে ২৩৪ আসনের বিধান সভায় সরকার গঠনের জন্য দরকার ছিল ১১৮টি আসন। কয়েকটি ছোট দলের সমর্থনে বিজয় তালিনাড়ুর ইতিহাসে প্রথমবারের মত জোট সরকার গঠন করেন।

জুন মাসের শেষ সপ্তাহে উথানগারাই কেন্দ্রের টিভিকে বিধায়ক এন ইলাইয়ারাজা-র সাথে তিরুনাভুক্কারাসু যোগাযোগ করেন। তিনি একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের বড় নেতাদের নাম করে ইলাইয়ারাজাকে বিধানসভায় দলীয় হুইপের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোট দেওয়ার প্রস্তাব দেন। বিনিময়ে তাকে ৩৫ কোটি রুপি দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। বিধায়ক ইলাইয়ারাজা সরাসরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে, ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে এবং তার পরিবারকে খুনের হুমকি দিতে শুরু করে। হুমকিতে ভয় না পেয়ে বিধায়ক ইলাইয়ারাজা গত ২৯ জুন চেন্নাই পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এরপরই ফাঁস হয় ‘প্রজেক্ট মেঘালয়া’র খবর।

পুলিশ মূল অভিযুক্ত তিরুনাভুক্কারাসুসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের ফোন, চ্যাট রেকর্ড এবং ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষায় পুলিশ দেখতে পায় মূল অভিযুক্ত তিরুনাভুক্কারাসুর সাথে পুথিয়া থালাইমুরাই চ্যানেলের সিনিয়র সাংবাদিক বিজয়নের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার পুলিশ বিজয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং তার ফোনটি জব্দ করেছে। তবে চেন্নাই প্রেসক্লাব পুলিশের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে এটিকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দমন করার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে। ক্লাবটি জানিয়েছে যে, ১৫ জুলাই গভীর রাত পর্যন্ত বিজয়নেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, সঠিক প্রক্রিয়া ছাড়াই তার ফোন জব্দ করা হয় এবং পর দিন আবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। তবে পুলিশ জোর দিয়ে বলেছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিজয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী ও ডিএমকে নেতা সেন্থিল বালাজি ও তার ভাই অশোক বালাজির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত মিলছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে পুলিশ। সেন্থিল বালাজির সাথে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বৈরিতা পুরোনো। গতবছর সেপ্টেম্বরে কারুরে বিজয়েরে এক নির্বাচনী জনসভায় পদদলিত হয়ে ৪১ জন মারা যান। সে ঘটনার জন্য বিজয় ডিএমকে এবং সেন্থিলকে দায়ী করেছিলেন। সেন্থিল কারুর এলাকার প্রভাবশালী বিধায়ক। তবে ডিএমকে এ ধরনের ষড়যন্ত্রের সাথে তাদেরর জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পুর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে।

LEAVE A REPLY