লন্ডনের আকাশে রহস্যময় চাকতি দেখলেন পাইলট

সংগৃহীত ছবি

লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের কাছে অবতরণের প্রস্তুতির সময় একটি রহস্যময় চাকতির মতো বস্তু দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন একটি বাণিজ্যিক বিমানের পাইলট। এ খবর জানিয়েছে মেট্রো ইউকে।

একটি সরকারি নিরাপত্তা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে এয়ারবাস এ৩১৯ যাত্রীবাহী বিমানে। বিমানটি নিচে নামছিল এবং রানওয়ের দিকে যাওয়ার জন্য বাঁ দিকে ঘুরছিল। এ সময় পাইলট ডান ডানার খুব কাছ দিয়ে বিপরীত দিক থেকে যাওয়া একটি বস্তু দেখতে পান। পাইলটের মতে, বস্তুটি দেখতে ‘উড়ন্ত চাকতির’ মতো ছিল।এটি একটি বিশেষ ধরনের ড্রোনও হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। রহস্যময় বস্তুটি বিমানের সমান উচ্চতায় বিপরীত দিকে যাচ্ছিল। ধারণা করা হয়, এটি বিমান থেকে মাত্র ১০০ থেকে ৩০০ ফুট দূরে ছিল। ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের এয়ারপ্রক্স বোর্ড তদন্ত করে।এটি একটি স্বাধীন সংস্থা, যা বিমান চলাচলের সময় কাছাকাছি সংঘর্ষের ঝুঁকির ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করে।

জুনে প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের এয়ারপ্রক্স বোর্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “এ৩১৯ বিমানের পাইলট জানিয়েছেন, বিমান নিচে নামার সময় এবং বাঁ দিকে ঘোরার সময় তিনি একটি চাকতি বা ‘উড়ন্ত চাকতি’ ধরনের সন্দেহজনক ড্রোন দেখতে পান। সেটি একই উচ্চতায় বিপরীত দিক থেকে এসে তাদের ডান ডানার খুব কাছ দিয়ে চলে যায়।” পাইলট জানান, বস্তুটি সাসেক্স গ্রামের ওপর দিয়ে উড়তে দেখা যায়। জায়গাটি হ্যাংক্রসের কাছে, যা গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে প্রায় সাত মাইল দক্ষিণে।পাইলট জানান, বস্তুটি স্পষ্টভাবে একটি চাকতির মতো ছিল। এর বাইরের অংশে গাঢ় রঙের দাগ ছিল। বিমানকর্মীরা ধারণা করেছিলেন, এটি হয়তো উন্নত বা অস্বাভাবিক কোনো ড্রোন হতে পারে। তবে তারা এর আসল পরিচয় বা কোথা থেকে এসেছে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি।

এত কাছ দিয়ে গেলেও পাইলটকে জরুরি কোনো পদক্ষেপ নিতে হয়নি। কারণ বিমানটি তখন আগে থেকেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বাঁক নিচ্ছিল। এলাকায় থাকা অন্য কোনো পাইলট এই অজানা বস্তুটি দেখতে পারেননি। তবে বিমান নিয়ন্ত্রণকারীরা সতর্কবার্তা জারি করেছিলেন। প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়, ‘বোর্ডের মতে, বস্তুটির বলা উচ্চতা এবং বর্ণনা এমন ছিল যে তারা অজানা বস্তুটির প্রকৃতি নিশ্চিত করতে পারেননি।’ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘বোর্ড মনে করেছে, নিরাপত্তা কিছুটা কমে গেলেও সেখানে কোনো সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়নি।’
 

LEAVE A REPLY