সংগৃহীত ছবি
জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমা দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে দেশটির নির্বাচন কমিশন তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে।গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ফলে নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়ায়নি।
নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, মোট প্রায় ৫০ লাখ ভোটের মধ্যে হিচিলেমা পেয়েছেন ২৯ লাখ ৬৫ হাজার ৩২৬ ভোট। তার সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী নেতা ব্রায়ান মুন্ডুবিলে পেয়েছেন ১৮ লাখ ৫৬ হাজার ২১৭ ভোট।তার ভোটের হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান মওয়াঙ্গালা জালৌমিস মঙ্গলবার হিচিলেমাকে জাম্বিয়া প্রজাতন্ত্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন। ফল ঘোষণার পর হিচিলেমা জাম্বিয়ার জনগণকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে যারা বিরোধী প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন, তাদেরও পাশে থাকার কথা বলেন তিনি।হিচিলেমা বলেন, যেসব নাগরিক তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের দেওয়া ধারণাকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের কথাও তার সরকার শুনবে। দেশের উন্নয়নের সুফল যেন প্রতিটি জাম্বিয়ান পান, তা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
জাম্বিয়ার এবারের নির্বাচন শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল। ভোটগ্রহণের পর গত শুক্রবার কয়েক ঘণ্টার জন্য ভোট গণনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আবার গণনা শুরু হয়।নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, কয়েকটি ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা হয়েছে। কিছু জায়গা থেকে ব্যালট পেপারও চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। নির্বাচনের রাতেই বিরোধী দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় সরকার। পুলিশ তাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেছিল। সব মিলিয়ে ভোট গণনার সময় দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন হিচিলেমাকেই বিজয়ী ঘোষণা করে।
হিচিলেমার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রায়ান মুন্ডুবিলে ফল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। এর আগে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। তিনি ঘটনাটিকে নিজের জীবনের ওপর হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে তার পক্ষ থেকে নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করা হবে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। এই নির্বাচন হিচিলেমার জন্য শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। তার সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপরও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তামা সমৃদ্ধ জাম্বিয়া ২০২০ সালে বড় ধরনের ঋণ সংকটে পড়ে। এর এক বছর পর, ২০২১ সালে হিচিলেমা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ক্ষমতায় আসার পর তিনি দেশের সরকারি ঋণ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি কমানো এবং দেশের মুদ্রার স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা করেন তার সরকার। ফলে এবারের নির্বাচনে তার অর্থনৈতিক নীতির প্রতি মানুষের সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা বলেছেন, জাম্বিয়ার নির্বাচন মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে তারা কিছু উদ্বেগও জানিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া এমন একটি পরিবেশে হয়েছে, যেখানে মৌলিক স্বাধীনতা কিছুটা সীমিত ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান মাইকেল ম্যাকনামারা বলেন, নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তে কিছু আইনি পরিবর্তন, আইনি অনিশ্চয়তা এবং প্রচারের ক্ষেত্রে অসম সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এতে নির্বাচনী প্রতিযোগিতার পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। ভোট গণনার সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে জাম্বিয়ার ক্যাথলিক বিশপদের সম্মেলন। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব সংবিধান ও আইন অনুযায়ী জাম্বিয়া পুলিশ সার্ভিসের। তাই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে।
এ ছাড়া বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার এবং ভোট গণনা বন্ধ হওয়ার ঘটনাও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এসব উদ্বেগের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য জয় পেলেন হাকাইন্দে হিচিলেমা। তাঁর সামনে এখন অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক বিভাজন কমানো এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দূর করার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।










































