ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি রেললাইনে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার ইয়াহোদিন স্টেশনের কাছে এ হামলা চালানো হয়।হামলার কয়েক মিনিট আগেই ওই এলাকা দিয়ে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ডট এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বহনকারী একটি কূটনৈতিক ট্রেন চলে যায়। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, কিয়েভে অনুষ্ঠিত একটি নিরাপত্তা সম্মেলন শেষে প্রতিনিধিদলটি পোল্যান্ডের দিকে ফিরছিল বলে জানায় এএনআই। তাদের বহনকারী কূটনৈতিক ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের আগেই ইয়াহোদিন স্টেশন ছেড়ে যায়।ফলে ট্রেনটি সম্ভাব্য হামলা থেকে রক্ষা পায়। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ইঞ্জিনে থাকা কোনো ব্যক্তি আহত হননি। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রুশ ড্রোনটির সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল কূটনৈতিক ট্রেনটি।
হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে ২২ ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তি
তবে ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশন ছেড়ে যাওয়ায় হামলাটি সেটিকে লক্ষ্য করে সফল হয়নি।পরে কার্ল বিল্ডট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলার এলাকার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে ইয়াহোদিন স্টেশনের কাছে হামলার চিহ্ন দেখা যায়। ওই এলাকা পোল্যান্ডের সীমান্তে ইয়াহোদিন-দোরোহুস্ক সীমান্ত পারাপারের খুব কাছে। বিল্ডট জানান, যে ট্রেনে তারা ছিলেন, সেটি হামলার শিকার হয়নি। তাদের ট্রেনের কয়েক মিনিট পর পোল্যান্ড সীমান্তের দিকে যাওয়া আরেকটি ট্রেন ওই এলাকায় ছিল।রুশ ড্রোনটি এগিয়ে আসার সময় ওই ট্রেনের যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এতে কেউ আহত হননি।
তিনি বলেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা ভালো থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাদের ট্রেনেও সতর্কতামূলকভাবে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বরিস জনসন ও কার্ল বিল্ডটসহ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা কিয়েভে গিয়েছিলেন ইয়াল্টা ইউরোপীয় কৌশল সম্মেলনে অংশ নিতে। প্রতি বছর এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন দেশের সরকার, ব্যবসা, প্রতিরক্ষা ও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেন।
ইউক্রেনের রেল কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, ওই সময় ইয়াহোদিন স্টেশনে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক ডেভিড পেট্রিয়াসকে বহনকারী আরেকটি ইঞ্জিন অবস্থান করছিল। আকাশ থেকে আসা একটি ড্রোন ওই সময় বিস্ফোরিত হয়। রেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, রুশ হামলা থেকে ট্রেন ও যাত্রীদের নিরাপদ রাখতে তারা নিয়মিত ট্রেনের সময়সূচি পরিবর্তন করে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ট্রেনের যাত্রার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
হামলার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বরিস জনসন বলেন, পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ইউক্রেনীয় রেল ইঞ্জিনে হামলা চালানোর পেছনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কী ধরনের যুক্তি কাজ করেছে, তা তিনি জানেন না। তিনি বলেন, ইউক্রেনের মানুষ প্রতিদিন এমন এলোমেলো ও অর্থহীন হামলার মুখে পড়ছেন। এমনকি বেসামরিক রেলপথও রুশ হামলা থেকে নিরাপদ নয়। এদিকে রবিবার এর আগে ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছাকাছি আরেকটি ঘটনা ঘটে। সীমান্ত নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, পোল্যান্ডের সীমান্ত থেকে এক মাইলেরও কম দূরে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকে একটি চালকবিহীন আকাশযান আঘাত হানে। ওই ঘটনার পর ইয়াহোদিন-দোরোহুস্ক সীমান্ত চেকপোস্টের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।










































