ত্রিপুরায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৬৩০ আসনে জিতল তিপ্রা মোথা-বিজেপি

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় স্থানীয় নির্বাচনে ভোটের আগেই ১ হাজার ৬৩০টি আসনের ফল নির্ধারিত হয়ে গেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৪৮টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছে বিজেপির শরিক তিপ্রা মোথা, আর বিজেপি জিতেছে ৮২টি আসনে।এই ফলাফল ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ত্রিপুরার রাজনীতিতে তিপ্রা মোথার অবস্থান আরো শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

জানা যায়, মনোনয়ন প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শনিবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের এ তথ্য জানিয়েছে ত্রিপুরা রাজ্য নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তিপ্রা মোথা ও বিজেপি মোট ১ হাজার ৬৩০টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পাওয়ায় এসব আসনে আর ভোটগ্রহণ হবে না।

ত্রিপুরার ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় তিপ্রা মোথা, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসসহ বিভিন্ন দলের মোট ৯ হাজার ৮২০ জন প্রার্থী এখনো নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন।তারা ২ হাজার ৯৬৭টি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

ত্রিপুরা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব অনুরাগ সেন জানিয়েছেন, বাকি ২ হাজার ৯৬৭টি আসনে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণ হবে।

নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, এখনো তিপ্রা মোথাই সবচেয়ে বেশি ৪ হাজার ২৭৯ জন প্রার্থী দিয়েছে। এরপর সিপিআইএমের ২ হাজার ১৫১ জন এবং বিজেপির ১ হাজার ৮৫৩ জন প্রার্থী রয়েছেন।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিপুলসংখ্যক আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় ত্রিপুরার আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় তিপ্রা মোথার অবস্থান আরো শক্তিশালী করেছে।

২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ফলাফলকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল নির্বাচনে তিপ্রা মোথার জয়ের পর গ্রাম কমিটির নির্বাচনেও তাদের এই সাফল্য এসেছে। ফলে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনায় তিপ্রা মোথার সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ কিশোর মাণিক্য দেববর্মার দর-কষাকষির ক্ষমতা আরো বাড়ল বলে মনে করা হচ্ছে।

ত্রিপুরার ভৌগোলিক এলাকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশজুড়ে রয়েছে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল।রাজ্যের রাজনৈতিক ক্ষমতা নির্ধারণে ঐতিহাসিকভাবেই এসব এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা ২৫ বছর ত্রিপুরায় ক্ষমতায় থাকা বামফ্রন্ট আদিবাসী এলাকায় শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি ধরে রেখেছিল। অন্যদিকে, ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল ইন্ডিজেনাস পিপলস ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা বা আইপিএফটি।

২০২৩ সালে পৃথক ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’-এর দাবিকে সামনে রেখে তিপ্রা মোথার উত্থান ত্রিপুরার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনে। এর ফলে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে বাম-কংগ্রেস জোটও প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

LEAVE A REPLY