ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব চরম রূপ নেওয়ার মধ্যেই নির্বাহী ক্ষমতা বলে রাশিয়ার ওপর নির্ধারিত বেশ কিছু বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে শুক্রবার রাতে এক জরুরি নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প দাবি করেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো স্থগিত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় স্বার্থের’ অনুকূল।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া ও ট্রাম্পের সই করা এই আইনে রাশিয়ার শীর্ষ তেল ও গ্যাস ক্রেতা দেশগুলোর (বিশেষ করে চীন ও ভারত) ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন তেলবাহী জাহাজের বহরের ওপরও নতুন বিধি-নিষেধ আরোপের বিধান ছিল। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই আদেশের ফলে কংগ্রেসের তৈরি সেই আইনের বড় একটি অংশ কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ল।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ডন বায়ার এক্সে লিখেছেন, ‘পুতিনের কাছে ট্রাম্পের এই নতুন আত্মসমর্পণ আবার প্রমাণ করল তিনি ইউক্রেনীয় অংশীদারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন এবং রাশিয়ার বেআইনি আগ্রাসনের শাস্তিতে পাস করা আইনের উদ্দেশ্যকে অমান্য করছেন।’
ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি। আগামী মাসের মিড-টার্ম নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির চুক্তি করেন ট্রাম্প। এর প্রতিবাদ জানিয়ে জেলেনস্কি অভিযোগ তুলেছিলেন যে আমেরিকা মূলত রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলে বিনিয়োগ করছে।
পরিস্থিতি আরো জটিল রূপ নেয় যখন কিয়েভ রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবার ড্রোন হামলা চালানো শুরু করে। ট্রাম্প এটিকে ‘লজ্জাজনক’ অ্যাখ্যা দিলে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মেলনে জেলেনস্কি খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করেন, ‘প্রকৃত নেতাদের মাঝে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে।’
পরবর্তী সময়ে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য অপরিহার্য স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’-এর গতি কৃত্রিমভাবে কমিয়ে দেওয়া এবং ড্রোন হামলায় সহায়তা বন্ধে গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার স্থগিত করার অভিযোগ উঠে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
এদিকে, ট্রাম্প এসব সামরিক সাহায্য কমানোর দাবি অস্বীকার করেছেন, তবে জেলেনস্কি শুক্রবার নিশ্চিত করেন যে স্টারলিংকের গতি এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি।











































