বৈশ্বিক সংকটে চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে ৪ কোটি মানুষ

বিশ্বজুড়ে নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম এবং চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা বজায় থাকলে নতুন করে চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে অন্তত ৪ কোটি মানুষ। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত, কৃষ্ণসাগরে খাদ্যশস্য পরিবহনে বাধা এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের মতো নানামুখী সংকটের সরাসরি আঘাত পড়ছে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের বাজারে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে জিনিসপত্রের দাম এক লাফে ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। জীবনযাত্রার এই চরম ব্যয়বৃদ্ধি নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষদের সরাসরি দারিদ্র্যসীমার নিচে ঠেলে দেওয়ার মূল কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বেড়েছে, যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর সর্বোচ্চ। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তেলের সরবরাহ ৫.২ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে কৃষ্ণসাগরে রুট ব্যাহত হওয়ায় চাল ও গমের মতো প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে।

১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে তীব্র ‘এল নিনো’র বিরূপ প্রভাব এবং কৃষি উৎপাদনের ব্যবহৃত সার ও ধাতব পণ্যের দাম ২৫ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে খাদ্য উৎপাদন ব্যয় ও বাজারদর আরো লাগামহীন হয়ে উঠছে।

এই চরম দারিদ্র্যের ঝুঁকি থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে এবং উদ্ভূত সংকট মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ২৫টি দেশকে প্রায় পৌনে এক বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের সুদের হার ও আর্থিক নীতি আরো কঠোর করতে বাধ্য হতে পারে। তবে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা দূর না হলে দারিদ্র্যের এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি কমানো কঠিন হয়ে পড়বে।

LEAVE A REPLY