কক্সবাজারে দিন-দুপুরে পর্যটককে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

কক্সবাজারে পর্যটক হয়রানির শেষ নেই। সাগরপারে বেড়াতে এসে পর্যটকরা প্রায়শ শিকার হচ্ছেন নানা হয়রানির মুখে।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সাগর পারে  প্রকাশ্য দিবালোকেও একদল পর্যটক ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে। ছিনতাইকারিরা পর্যটকদের টাকা ছিনতাইয়ের পরেও ছুরিকাঘাত করার সময় ধরা পড়েছে একজন। 

অপরদিকে মহেশখালী আদিনাথ মন্দিরের জেটি এলাকায় ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের ধাক্কায় নিহত হয়েছে এক শিশু পর্যটক।

পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল দুপুর্ ২টার দিকে কলাতলি সৈকত তীরের ওয়ার্ল্ড বিচ হোটেল সংলগ্ন রাস্তায়।আটক হওয়া ছিনতাইকারির নাম জামাল উদ্দিন (১৮)। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা বাজারের ইদ্রিস শেখের ছেলে তিনি।

ছিনতাইয়ের শিকার পর্যটক মাহফুজ আনাম রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা। পর্যটক মাহফুজ কালের কণ্ঠকে জানান, তারা ১১ জন সহপাঠী ঢাকা থেকে বান্দরবান হয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন সোমবার।তাদের দলের কয়েকজন রিসোর্টের কক্ষ থেকে রাস্তায় বের হয়েই ৪/৫ জনের ছিনতাইকারী দলের কবলে পড়েন। ছিনতাইকারীর দল ছুরি ধরে পর্যটকদের পকেট হাতিয়ে নগদ দেড় হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরও একজন ছিনতাইকারী ছুরিকাঘাত করতে উদ্যত হলে তাকে ঝাপটে ধরে ফেলা হয়। ততক্ষণে অন্যরা সটকে পড়ে। পর্যটকরা হাতেনাতে ধরে ছিনতাইকারীকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় সোপর্দ করেন।

বেড়াতে এসে ছিনতাইয়ের কবলে পড়া ক্ষুব্ধ পর্যটক মাহফুজ আনাম কালের কণ্ঠকে বলেন- ‘দিনে-দুপুরে হাজারো পর্যটকের সামনে এত বড় ছুরি ঠেকিয়ে এ ধরনের ঘটনা যদি ঘটে সেখানে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? কক্সবাজারের মতো এরকম একটা জায়গাতে লাখ লাখ টাকা আমরা ব্যয় করতে আসি, বছরে কতই পর্যটক এখানে আসে।নিরাপত্তাই যদি দিতে না পারে সরকার তাহলে বলে দিক আর কক্সবাজারে না আসতে।’

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী কালের কণ্ঠকে বলেন- ‘পর্যটন শহরে ছিনতাই রোধকল্পে প্রতিদিনই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ৪৫ দিনে পুলিশ ৮৯৫ জন অপরাধীকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে অন্তত ২০০ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারী। তারপরেও দুয়েকটা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।’ তিনি জানান, ছিনতাই একেবারে বন্ধ হয়নি। তবে আগে ১০টি হলে এখন হয়তোবা একটি হচ্ছে।

মহেশখালী ঘুরতে এসে প্রাণ গেল ৫ বছরের আফরিনের

বাবার কাছে বায়না ধরেছিল, একটা ঠান্ডা পানীয় কিনে দিতে হবে। হয়তো ছোট্ট আবদারটি পূরণও করেছিলেন বাবা। কিন্তু কে জানত, দিনের শুরুতে আদরের মেয়ের সেই বায়নাই একসময় স্মৃতি হয়ে থাকবে। মহেশখালীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাদের। ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কক্সবাজারে ঘোরার পরিকল্পনা ছিল। অথচ তার আগেই সব আনন্দ বিষাদে পরিণত হলো। মহেশখালীর আদিনাথ জেটি এলাকায় মিশুকের ধাক্কায় প্রাণ গেল পাঁচ বছরের শিশু আফরিন সুলতানার।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার আদিনাথ জেটি এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার (মিশুক) ধাক্কায় নিহত হয় আফরিন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে তার সাত বছর বয়সী কাজিন আয়ান। দুজনের বাড়ি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল এলাকায়। নিহত আফরিনের বাবার নাম আল আমিন এবং মায়ের নাম শেখ হাসিনা। আফরিনের মামা মেসবাহ উদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, সকাল ১১টার দিকে দ্রুতগতির মিশুকের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর মিশুকচালক তাকিল (১৮) পালিয়ে গেছে।

পর্যটন মৌসুমে মহেশখালীর আদিনাথ জেটি এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মহেশখালীতে বেড়াতে এসে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটানোর কথা ছিল ছোট্ট আফরিনের। বাড়ি ফেরার কথা ছিল নতুন স্মৃতি নিয়ে। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তার জীবন, আর পরিবারের কাছে রেখে গেল এমন এক শূন্যতা, যা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়ার মেরিন ড্রাইভের ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন পর্যটক।

LEAVE A REPLY