‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’র ২৫ বছর, স্মৃতিচারণায় মাধবান-দিয়া

মুক্তির ২৫ বছর পরও দর্শকের ভালোবাসা পাচ্ছে বলিউডের রোমান্টিক সিনেমা ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’। ছবিতে আর মাধবান ও দিয়া মির্জার জুটি এখনো দর্শকের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।সিনেমাটির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইনস্টাগ্রামে ভিডিও পোস্ট করে স্মৃতিচারণা করেছেন দুই অভিনেতাই। দীর্ঘ সময় পরও তাদের জুটির প্রতি দর্শকদের ভালোবাসা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মাধবান ও দিয়া।

মাধবান তার ভিডিওতে জানান, ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দর্শক এখনো তাকে ও দিয়া মির্জাকে জুটি হিসেবে পছন্দ করেন। বিষয়টি তার কাছে ভীষণ ভালো লাগার।এত বছর ধরে ভালোবাসা দেওয়ার জন্য ভক্তদের ধন্যবাদও জানান অভিনেতা।

অন্যদিকে, দিয়া শুটিংয়ের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে নিজের কণ্ঠে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তুলে ধরেছেন ছবিটির শুটিংয়ের দিনগুলো, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, হাসি, ক্লান্তি আর গানের স্মৃতি।

H

ভিডিওর ভয়েসওভারে দিয়া বলেন, ‘দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ, হাসি, ক্লান্তি—তবু কোনোভাবে আমার স্মৃতিতে সবকিছু এখন জাদুর মতো মনে হয়।আর গানগুলো! ২৫ বছর পরও সেগুলো আমাকে সব জায়গায় খুঁজে নেয়।’

H

এরপর অভিনেত্রী আরো বলেন, ‘আমার একটা অংশ সব সময় সেই মেয়েটাই হয়ে থাকবে, যে বৃষ্টিতে নাচত, ভালোবাসায় বিশ্বাস করত। ২৫ বছর পরও আপনারা তাকে নিজেদের হৃদয়ে ধরে রেখেছেন। আর আমিও আপনাদের আমার হৃদয়ে ধরে রাখব।’

দিয়ার এই আবেগঘন বার্তায় উঠে এসেছে সিনেমাটির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত স্মৃতি এবং দর্শকদের সঙ্গে তৈরি হওয়া দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক।ছবিটির গান ও রোমান্টিক আবহ যে এত বছর পরও দর্শকের মনে জায়গা করে আছে, তার কথায় সেই অনুভূতিই প্রকাশ পেয়েছে।

২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয়েছিল দিয়া মির্জার। তখন তার বয়স ছিল ১৯ বছর। এর এক বছর আগে, ২০০০ সালে ‘মিস এশিয়া প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল’ খেতাব জিতেছিলেন তিনি। সিনেমাটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন আর মাধবান।

মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। তবে সময়ের সঙ্গে দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এটি। বিশেষ করে মাধবান ও দিয়া মির্জার রসায়ন ছবিটিকে রোমান্টিক সিনেমাপ্রেমীদের কাছে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

ক্যারিয়ারের কঠিন সময়ের কথা জানালেন দিয়া

সিনেমাটির ২৫ বছর পূর্তিতে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কঠিন অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন দিয়া। তার অভিনীত সিনেমাগুলো বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা না করায় একসময় নতুন ছবিতে কাজের সুযোগ হারিয়েছিলেন তিনি।

D

দিয়া বলেন, ‘আমার সিনেমাগুলো যখন বক্স অফিসে ভালো করছিল না, তখন সত্যি বলতে আমাকে ফিচার ফিল্ম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। একজন তরুণ ও স্বপ্ন দেখা অভিনেতার জন্য এটি বড় ধরনের মানসিক ধাক্কা হতে পারে।’

২০০৪-০৫ সালের দিকে তারকাখ্যাতির পেছনে ছোটা বন্ধ করে দেন দিয়া। এরপর বাণিজ্যিক সাফল্যের চেয়ে অর্থবহ গল্প ও নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে মেলে—এমন কাজকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। তার ভাষায়, ‘আমি বস্তুগত অর্জনের চেয়ে অর্থপূর্ণ কাজকে গুরুত্ব দিয়েছি।’

নিজের সুযোগ নিজেই তৈরি করেন দিয়া

কাজের সুযোগের জন্য অপেক্ষা না করে নিজের পছন্দের গল্প নিয়ে কাজ করতে ২৪ বছর বয়সেই চলচ্চিত্র প্রযোজনায় যুক্ত হন দিয়া। তার প্রযোজিত সিনেমার মধ্যে রয়েছে ২০১১ সালের ‘লাভ ব্রেকআপস জিন্দেগি’ এবং বিদ্যা বালান অভিনীত ২০১৪ সালের ‘ববি জাসুস’।

নিজের অবস্থান তৈরি করার বিষয়ে দিয়া বলেন, ‘যদি আমাকে টেবিলে জায়গা দেওয়া না হয়, তাহলে আমি নিজের টেবিল তৈরি করব।’

২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সাঞ্জু’ সিনেমায় মান্যতা দত্তের চরিত্রে অভিনয় এবং ২০১৯ সালের ওয়েব সিরিজ ‘কাফির’-এ কাইনাজ আখতারের ভূমিকাকে ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখেন তিনি। বিশেষ করে ‘কাফির’ তার অভিনয়জীবনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে।

চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে পর্দায় কতক্ষণ দেখা যাবে কিংবা তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন কি না—এসবের চেয়ে চরিত্রের গভীরতাকে গুরুত্ব দেন দিয়া। তার কথায়, ‘আমি কখনো চরিত্রের দৈর্ঘ্যকে গুরুত্ব দিইনি। সব সময় চরিত্রের গভীরতাকে গুরুত্ব দিয়েছি।’

ভারতীয় সিনেমায় নারীর উপস্থাপনা নিয়েও কথা বলেছেন দিয়া। তার মতে, গত এক দশকে পিতৃতন্ত্র ও নারীবিদ্বেষ নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে অনুভব সিনহার ‘থাপ্পড়’ সিনেমার উদাহরণ টানেন তিনি। ছবিটিতে সংবেদনশীলভাবে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী।

নতুনদের উদ্দেশে দিয়া বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের ব্যর্থতা দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় না। তার ভাষায়, ‘কাজ করার নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নেই। আপনি কত দিন কাজ করতে চান, তা আপনিই ঠিক করবেন।’

ক্যারিয়ারে টিকে থাকতে নিয়মিত শেখা, সততা ও কাজের প্রতি অঙ্গীকারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন দিয়া মির্জা।

মুক্তির আড়াই দশক পরও ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ এবং মাধবন-দিয়ার জুটির প্রতি ভালোবাসা যেন সিনেমাটির দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।

LEAVE A REPLY