রুমানা রশীদ ঈশিতা
অনেক দিন পর নতুন গান নিয়ে হাজির হলেন নব্বই দশক মাতানো টিভি পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুমানা রশীদ ঈশিতা। এর বাইরেও তিনি একজন মডেল, গায়িকা, নৃত্যশিল্পী, লেখিকা এবং শিক্ষিকা। একটা সময় নান্দনিক অভিনয় দিয়ে দর্শক মাতালেও এখন খুব একটা অভিনয়ে দেখা যায় না। অভিনয়ে না পাওয়া গেলেও মাঝেমধ্যেই নন্দিত এই অভিনেত্রী হাজির হন নতুন নতুন গান নিয়ে।
সদ্যই অন্তর্জালে উন্মুক্ত হয়েছে তার নতুন গান ‘রুপোর ঝলক’। আসিফ ইকবালের কথায় গানটির সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেছেন অমিত চ্যাটার্জি এবং ঈশান মিত্র। গান, অভিনয় ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর।
৫ বছর পর আবার গানে পাওয়া গেল আপনাকে…
বছর পাঁচেক আগে ‘কেন’ শিরোনামে একটি নাটকে অভিনয় করেছিলাম আমি।
ওই সময়ে আসিফ ইকবাল ভাই আমাকে ‘রুপোর ঝলক’ গানটির কথা বলেছিলেন। তখন আমি জানিয়েছিলাম, কেন করব না, অবশ্যই করব। তারপরেই গানটি গাওয়া হয়। কিন্তু গানটি করার সময়েও জানতাম যে গানটি কোথায় যাবে।
গানটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিল সে কারণে এগুলো নিয়ে আর কিছু জিজ্ঞেস করা হয়নি। পরে দেখলাম এটা নাটকে ব্যবহৃত হয়েছে।
‘নসিব’ নাটকে গানটি ব্যবহৃত হয়েছে। নাটকটি দেখা হয়েছে কী?
না, এখনো দেখা হয়নি। গানটি তো মাত্রই রিলিজ হলো।
এই সপ্তাহে কিংবা পরের সপ্তাহে সুযোগ করে নাটকটি দেখে নেব।
এখন ব্যস্ততা কী নিয়ে?
এখন শোবিজ নিয়ে আমার কোনো ব্যস্ততা নেই। যতটুকু ব্যস্ত সেটা নিজেকে নিয়ে, পরিবার নিয়ে। আমার ছেলেটা সামনে ষোল এবং মেয়েটা দশে পা দেবে। আলহামদুলিল্লাহ বড় হয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে নিয়ে আপাতত একটু চিন্তা মুক্ত, যেহেতু তারা বিকেল পর্যন্ত স্কুলে থাকে। এখন আমার হাতে কিছুটা সময় আছে নিজে কিছু করার জন্য। তাই আপাতত নিজের কিছু কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি বলা যায়।
/Ishita-K2.jpg)
মাঝে আপনার একটি নাটকে অভিনয় করার কথা ছিল। কিন্তু পরে আর সেটি হয়নি। অভিনয়ে কি তাহলে পাওয়া যাবে না?
হ্যাঁ, কাজটি আর হয়ে ওঠেনি। যদি সামনে সুন্দর, ভালো কোনো স্ক্রিপ্ট পাই তাহলে অবশ্যই কাজ করব। মাঝেমধ্যেই স্ক্রিপ্ট আসে আমার কাছে। কিন্তু আমি যেরকমটা চাচ্ছি সেরকম কিছু পাচ্ছি না।
এখন তো অনেক কম কাজ করি। শেষ যেমন করেছিলাম ‘ইতি, মা’ এবং ‘পাতা ঝরার দিন’ নাটক, এরকম চরিত্র হলে সেই কাজটা করা যায়। গল্পটা আমি অথবা আমার ফ্যামিলি কেন্দ্রিক হতে হবে। মাঝখানে একজন হয়ে তো এখন আর কাজ করার দরকার নেই আমার। ওরকম এক্সক্লুসিভ কিছু হলেই করব নয়তো করব না।

অবসরে কি নাটক-সিনেমা দেখা হয়?
হ্যাঁ, আমি সবসময়ই দেখি। সবার কাজই দেখা হয়।
আপনাদের সময় পেরিয়ে এখনকার প্রজন্মের যারা কাজ করছে, তারা কেমন করছে বলে মনে হয় ?
আমার কাছে মনে হয়, এখন যারা কাজ করছে তারা অনেক বেশি কম্পিটিটিভ। আমাদের সময়ে আমরা শুধু লোকাল আর্টিস্টদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতাম, এখন আর সেই সিচুয়েশনটা নেই। কিন্তু এখন যারা কাজ করছে তাদেরকে পুরো বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকতে হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয় আগের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের যুদ্ধ করতে চলতে হচ্ছে। তাদের জীবনটা আমাদের চেয়েও কঠিন। তারমধ্যেও অনেকেই ভালো কাজ করছে। যারা ভালো কাজ করছে তারাই টিকছে, বাকিরা টিকছে না।

শিল্পীর টিকে থাকায় কী করণীয়, সিনিয়র শিল্পী হিসেবে জুনিয়রদের জন্য আপনার কোনো পরামর্শ…
এখন প্রতিযোগিতা এত বেশি আর মানুষও অনেক বেশি অমনোযোগী। কেউই তো আগের মতো মন দিয়ে, সময় নিয়ে কোনো কিছু দেখে না। শুধু শিল্পীদের দোষ দিয়েও লাভ নেই। যুগটাই পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ভালো কাজ যুগে যুগে ছিল, থাকবে। ভালো কাজ করলেই দর্শক মনে আসন করে নিতে পারবে। শিল্পীর টিকে থাকার জন্য ভালো কাজের কোনো বিকল্প নেই।
আমাদের সময়ে যদি ভাবতাম, ১৯৫০ সালের শিল্পীরা কেমন করে চলত, জীবন ধারণ করত, সেভাবে আমরা চলব; এটা যেমন সঠিক হতো না তেমনি এখনকার শিল্পীরাও যদি ভাবে নাইন্টিজের শিল্পীদের মতো করে চলবে; সেটাও কিন্তু সঠিক হবে না। যেই যুগে যেটা প্রয়োজন সেটাই করতে হবে। তবে মাত্রা জ্ঞান থাকাটা জরুরি।











































