এক মাসে অনিদ্রা, উদ্বেগ ও ক্লান্তিতে ভুগছেন অর্ধেক ইসরাইলি

ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন ‘রাইজিং লায়ন’ শেষ হওয়ার এক মাস পর, মাক্কাবি হেলথকেয়ার সার্ভিসের এক জরিপে দেখা গেছে, অনেক ইসরাইলি এখনও ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি, ভয়, উদ্বেগ এবং শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতিতে ভুগছেন। 

সোমবার (১১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে জেরুসালেম পোস্ট।

১,১০০ জন ইসরাইলির ওপর করা এই জরিপে উঠে এসেছে, অর্ধেক উত্তরদাতা যথেষ্ট ঘুম হচ্ছে না, যা তাদের স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে বাধা দিচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৩৩ শতাংশ। 

অর্ধেক মানুষ সপ্তাহে অন্তত দুইবার অনিদ্রায় ভুগছেন, যা আগের তুলনায় বেড়েছে। প্রায় ১৬ শতাংশের ক্লান্তির মাত্রা গুরুতর বা অত্যন্ত গুরুতর। অনেকেই দৈনন্দিন সমস্যা মোকাবিলা বা মনোযোগ ধরে রাখার শক্তি হারাচ্ছেন।

এছাড়া, প্রায় এক চতুর্থাংশ উত্তরদাতা বলেছেন যে ‘লাইক আ লায়ন’ ঘটনার পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা খুবই কঠিন হয়েছে, আরেক-তৃতীয়াংশ বলেছেন মাঝারি মাত্রার অসুবিধা হয়েছে। প্রধান উপসর্গ হিসেবে এসেছে চাপ, ভয় ও উদ্বেগ; ক্লান্তি ও শক্তি হ্রাস; এবং ঘুমের ব্যাঘাত।আরও পড়ুন

ধূমপায়ীদের মধ্যে বেশিরভাগই যুদ্ধে সিগারেটের ব্যবহার বাড়িয়েছেন। প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাদের মানসিক অবস্থা মাঝারি বা খারাপ, যা ৭ অক্টোবরের গণহত্যার আগে ১৩ শতাংশ ছিল। ৩০ শতাংশ এখন মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন, যা যুদ্ধ শুরুর দুই মাস পরে ছিল ১৮ শতাংশ।

জরিপে অংশ নেওয়া ২০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা প্রায়ই দুঃখ, হতাশা বা দৈনন্দিন কাজে আগ্রহ হারানোর অনুভূতি পাচ্ছেন। শিশুদের ওপরও এর প্রভাব পড়েছে—২৫ শতাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানের আচরণে অবনতি লক্ষ্য করেছেন, যার মধ্যে খিটখিটে মেজাজ, অস্থিরতা, একাকীত্বে ঝোঁক বা আক্রমণাত্মক মনোভাব অন্তর্ভুক্ত। ২০ শতাংশ অভিভাবক সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি লক্ষ্য করেছেন।

মাক্কাবির প্রয়োগকৃত গবেষণার প্রধান নাআমা স্টেইন বলেন, কিছুটা স্বাভাবিক জীবনে ফেরা গেলেও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব রয়ে গেছে, বিশেষ করে যুদ্ধ চলমান থাকায়। তার মতে, এই ক্ষতি ঘুম ও মানসিক সুস্থতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, ফলে অনেকেই মনোবৈজ্ঞানিক সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করছেন এবং দৈনন্দিন জীবনে সমস্যায় পড়ছেন। এই প্রবণতা প্রায় দুই বছর ধরে চলছে।আরও পড়ুন

মাক্কাবির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. এরান রথম্যান বলেন, এই তথ্য যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্য প্রভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছে। খারাপ ঘুম, বাড়তে থাকা ক্লান্তি এবং দীর্ঘস্থায়ী দুঃখ ও উদ্বেগ শারীরিক স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন সামর্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তিনি আরও বলেন, এটি একটি ধীরে ধীরে জমা হওয়া প্রক্রিয়া, যা প্রায়ই নীরবে বিকশিত হয়। তাই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তা তৈরির উপকরণ যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

LEAVE A REPLY