এক বাবা, এক বিপদ এবং এক থ্রিলার—‘লকড’

আমেরিকান থ্রিলার ‘লকড’ দেখলে মনে হয়, মানুষকে বন্দি রাখার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা কতটা ভিন্নভাবে পর্দায় তুলে ধরা যায়। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র এক হতভাগা বাবা। ছোটখাটো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে সে মেয়ের ভরণপোষণের টাকা জোগাড় করে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম খেলায় সে নিজেই বন্দি হয়ে যায় এক আধুনিক বিলাসবহুল গাড়ির ভেতর।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ডাকাতির জন্য অব্যবহৃত গাড়ি খুঁজতে গিয়ে একটি আনলক করা ঝকঝকে এসইউভি দেখতে পায় সে। ভেতরে ঢুকে কিছু খুঁজে বের করার চেষ্টা করার মুহূর্তেই দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হয়ে যায়। সেখান থেকেই শুরু হয় ভয়ঙ্কর বন্দিদশা। বুলেটপ্রুফ গ্লাসে গুলি চালিয়েও কিছু হয় না।

চিৎকার-চেঁচামেচি বাইরে পৌঁছায় না। সব মিলিয়ে এক ভৌতিক নীরবতা তাকে ঘিরে ধরে।

হঠাৎ গাড়ির স্ক্রিনে ভেসে ওঠে একটি কল। ওপাশে গাড়ির মালিক—যিনি প্রতিটি ক্যামেরার চোখ দিয়ে গাড়ির ভেতরের সবকিছু দেখছেন এবং নিয়ন্ত্রণ করছেন।ক্ষমা চেয়েও কোনো লাভ নেই, কারণ মালিক যেন শাস্তি দিতেই বদ্ধপরিকর। কখনো বৈদ্যুতিক শক, কখনো অসহনীয় গরম বা তীব্র ঠান্ডা, কখনো আবার গাড়িকে অটোড্রাইভে চালিয়ে ভয় দেখানো—সব মিলিয়ে এ এক ভয়ঙ্কর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের খেলা। এমনকি গভীর রাতে ছিনতাইকারীদের গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করার মতো ভয়াল অভিজ্ঞতার মুখোমুখিও হতে হয়।

একজন অসহায় বাবা দিনকে দিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়ে। তার একটাই স্বপ্ন—যেভাবেই হোক মেয়ের কাছে ফিরে যাওয়া।

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—সে কি এই মৃত্যুফাঁদ থেকে বেঁচে বেরোতে পারবে?

সিনেমাটিতেতে এই বাবা এডির চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিল স্কারসগার্ড, যিনি দারুণভাবে আতঙ্ক, হতাশা আর লড়াইয়ের মানসিক চাপ ফুটিয়ে তুলেছেন। অন্যদিকে গাড়ির মালিকের ভূমিকায় অ্যান্থনি হপকিন্স অল্প উপস্থিতিতেই ছড়িয়ে দিয়েছেন ভয়ঙ্কর এক শীতলতা। পরিচালক ডেভিড ইয়ারোভেস্কি মূল আর্জেন্টাইন ছবি ফোরএক্সফোর-এর ইংরেজি রিমেকে গল্পটিকে নতুন করে সাজিয়েছেন।

তবে পুরো সিনেমার অভিজ্ঞতা নিয়ে দর্শকের মন দ্বিধায় ভরতে পারে। শুরুটা যতটা টানটান, শেষের দিকে ততটা গতি ধরে রাখতে পারেনি। নির্যাতনের দৃশ্য বারবার ফিরে আসায় কোথাও কোথাও পুনরাবৃত্তির ছাপ পড়ে। তবুও, বিল স্কারসগার্ডের একক অভিনয় এবং হপকিন্সের ভয়াল কণ্ঠ সিনেমাটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

‘লকড’ মূলত মানুষের অসহায়ত্ব, ভয়ের মনস্তত্ত্ব আর আধুনিক প্রযুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার এক নির্মম চিত্রনাট্য। যে দর্শক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার পছন্দ করেন, তাদের জন্য লায়ন্সগেট প্লেতে প্রিমিয়ার হওয়া সিনেমাটি নিঃসন্দেহে ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে।

LEAVE A REPLY