নিজের দুই সন্তানকে অপহরণকারীদের হাতে তুলে দেন বাবা, ১ মাস পর উদ্ধার

স্ত্রীর কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে দুই সন্তানকে বিক্রির জন্য অপহরণকারীদের দিয়ে তুলে নিয়ে যায় বাবা। অপহরণকারী ঐ চক্র দুই সন্তানকে দুইস্থানে নিয়ে জিম্মি করে রাখে। অপহরণকারীদের কবল থেকে একমাস পর উদ্ধার করল নারায়ণগঞ্জ পিবিআই।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে অমানবিক এমন তথ্যই জানালেন নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাত বছর আগে ঝর্না আক্তারের সঙ্গে মেজবাহ উদ্দিনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আরিয়ান (৫) ও আব্দুর রহমান জুবায়েত (২৮ দিন বয়স) নামে দুই সন্তান রয়েছে। 

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই মেজবাহ উদ্দিন বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং সংসারে কলহ সৃষ্টি করেন। পাশাপাশি স্ত্রীকে টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন এবং টাকা না দিলে সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দিতেন।

গত ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় পিতা মেজবাহ উদ্দিন তার পূর্বপরিচিত অপহরণকারী চক্রের সদস্য এমদাদুল হক রাব্বানীর সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে দুই সন্তানকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মিজমিজি বুকস গার্ডেন এলাকা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। 

পরে ভুক্তভোগী মা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন, শিশু দুটিকে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছে। সন্তানদের কোনো খোঁজ না পেয়ে সন্তাদের মা ১৩ মে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়  মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে  এ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ পিবিআই গত ১৮ মে গভীর রাতে রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তি এলাকার টিএনটি গেট এলাকা থেকে মামলার মূলহোতা এমদাদুল হক রাব্বানীকে (২৩) গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুর-ই-নাসরিনকে (২৯) গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে অপহৃত ২৮ দিন বয়সি শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ১৩ মে রাতে সাভারের আড়াপাড়া এলাকার নিঝুমনিবাস এলাকা থেকে অপর ভিকটিম পাঁচ বছর বয়সি শিশু আরিয়ানকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুদ্বয়ের বাবা মেজবাহ উদ্দিনকেও গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই জানায়, তদন্তে গ্রেফতারকৃত এমদাদুল হক রাব্বানী একটি সক্রিয় মানব পাচার চক্রের সদস্য হিসেবে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে টার্গেট করে শিশু সংগ্রহ করে পাচার করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে একাধিক শিশুপাচারের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে মেজবাহ উদ্দিন মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও তদন্তে জানা গেছে। তিনি একাধিক বিয়ে করে নিজের সন্তানদের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত এমদাদুল হক রাব্বানীর পাঁচ দিনের এবং নুর-ই-নাসরিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া মেজবাহ উদ্দিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং আরও পাচার হওয়া শিশুদের উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে  বলে জানায়  পিবিআই।

LEAVE A REPLY