ছবিসূত্র : রয়টার্স
ঘূর্ণিঝড়টি ‘মেলিসা’ ২৫০ কিলোমিটারের বেশি বেগে ধেয়ে এসে ক্যারিবীয় অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা কমপক্ষে ৩০ জন বলে জানা গেছে। তবে কিছু খবরে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি বলে জানিয়েছে, তবে সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।
আটলান্টিক মহাসাগরে অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় হারিকেন মেলিসা।
এর তাণ্ডবে জ্যামাইকা সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে। বুধবার জ্যামাইকায় ক্যাটাগরি ৫-এ পরিনিত হয়ে সরাসরি আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় মেলিসা। সেখানে কমপক্ষে পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
দেশটির মানুষ ছাদে আটকা পড়েছে এবং বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস বলেছেন, ‘৮০-৯০ শতাংশ বাড়ির ছাদ উড়ে গেছে।’ এর মধ্যে আছে হাসপাতাল, লাইব্রেরি, পুলিশ স্টেশন, অন্যান্য অবকাঠামো। ১৭৪ বছরে এত ভয়াবহ ঝড় দেখেনি জ্যামাইকা। এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় হিসেবেও বর্ণনা করা হচ্ছে একে।
জ্যামাইকার রাষ্ট্রপ্রধান রাজা চার্লস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘জ্যামাইকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে মেলিসার কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাতে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং দুঃখিত।’
দেশটিতে তিনজন পুরুষ এবং একজন নারী নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও সম্প্রদায় উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ডেসমন্ড ম্যাকেঞ্জি জানান, ঝড়ের সময় বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
মন্টেগো বে-এর মেয়র রিচার্ড ভার্নন বিবিসিকে জানান, বন্যার কারণে শহরটির অর্ধেক অংশ অন্য অর্ধেক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সবাই বেঁচে আছে কি না তা নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে হাইতিতে মেলিসার প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় কমপক্ষে ২০ জন মারা গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এফপিএফ নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছে, এর মধ্যে ১০ জন শিশু রয়েছে। দেশটি ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে দ্বীপ ভাগাভাগি করে নিয়েছে। সেখানে হঠাৎ বন্যা ও ভূমিধসের বিধ্বংসী প্রভাব পড়েছে, যার ফলে প্রায় ৩ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে।
এলাকায় অনেক বাড়ি পানিতে ভেসে গেছে। তিনি আরো জানান, অনেক কাঠামোর ছাদও উড়ে গেছে এবং মানুষ ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করছে। জোরালো বাতাস, প্রবল বৃষ্টি ও বন্যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ফসল ধ্বংস করেছে।
বর্তমানে মেলিসা কিছুটা দুর্বল হয়ে ক্যাটাগরি–১ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেও এর ভয়াবহ প্রভাব এখনো অব্যাহত। উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে এটি কিউবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও তাণ্ডব চালিয়েছে।
সান্তিয়াগো দে কিউবায় বসবাসরত ভিডিও নির্মাতা রোভিয়ের মেসা রদ্রিগেজ ঝড়টিকে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এর শব্দ টর্নেডোর মতো শোনাচ্ছিল। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেলে বাসিন্দাদের প্রতি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশটি সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল, যা ঝড় মোকাবিলায় সহায়ক হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স











































