প্রতীকী ছবি
নিজের একমাত্র মেয়ের মৃত্যুর পর শোকাহত এক বাবা যখন সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে গিয়েছিলেন, তখন একের পর এক ঘুষের দাবি আসতে থাকে তার কাছে।
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল)-এর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে শিবকুমার এমন ভয়াবহ ঘটনার ভুক্তভোগী হয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন, মৃত্যু নিয়েও থেমে নেই প্রশাসনের দুর্নীতি ও উদাসীনতা।
শিবকুমার নিজেকে বিপিসিএলের সাবেক চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) হিসেবে পরিচয় দিয়ে লিখেছেন, ‘সম্প্রতি আমার একমাত্র মেয়ে ৩৪ বছর বয়সে মারা গেছে। অ্যাম্বুল্যান্স, পুলিশ, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, শ্মশানের রসিদ, মৃত্যুসনদসহ প্রতিটি ধাপে প্রকাশ্যে ঘুষ চাওয়া হয়েছে।
’
তার মেয়ে ৩৪ বছর বয়সী অক্ষয়া শিবকুমার গোল্ডম্যান স্যাকসে কাজ করতেন। কম্পিউটার সায়েন্সে বি.টেক ডিগ্রি ও আইআইএম আহমেদাবাদ থেকে এমবিএ করেছিলেন তিনি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে (ব্রেইন হেমারেজ) তার মৃত্যু হয়।
শিবকুমার জানান, কাসাভানাহল্লির এক হাসপাতাল থেকে করমাঙলার সেন্ট জনস হাসপাতালে মেয়ের মরদেহ নিয়ে যেতে অ্যাম্বুল্যান্সচালক ৩,০০০ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
এরপর শুরু হয় আরো মর্মান্তিক অধ্যায়। থানায় গিয়ে যখন তিনি ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও এফআইআর কপি নিতে চাইলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে নগদ টাকা দাবি করেন।
পুলিশ স্টেশনে এফআইআর এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য খোলামেলাভাবে নগদ টাকা দেওয়ার কথা জানিয়ে শিবকুমার লিখেছেন, ‘একমাত্র সন্তান হারানো বাবার প্রতি কোনো সহানুভূতি নেই। খুবই দুঃখজনক অবস্থা।
আমার কাছে টাকা ছিল, আমি টাকা দিয়েছি। গরিবরা কী করবে?’
ঘুষের চক্র এখানেই থামেনি। মৃত্যুসনদ পেতেও তাকে পাঁচ দিন ধরে ব্রুহৎ বেঙ্গালুরু মহানগর পালিকের (বিবিএমপি) অফিসে ঘুরতে হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘জাতি সমীক্ষা চলছে, কেউ নেই।’ শেষ পর্যন্ত একজন সিনিয়র কর্মকর্তার মাধ্যমে সার্টিফিকেট পেলেও দিতে হয়েছে অতিরিক্ত অর্থ।
পোস্টের শেষে শিবকুমার লিখেছেন, শহরের ব্যক্তিদের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন, ‘তারা কি এই শহরকে রক্ষা করতে পারবেন না?’
এই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয় ব্যাপক ক্ষোভ। এর পরপরই বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ড পুলিশ পদক্ষেপ নেয়।
ঘটনায় জড়িত থাকায় বেলান্দুর থানার এক সাব-ইন্সপেক্টর ও এক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বেঙ্গালুরু পুলিশ জানিয়েছে, শিবকুমারের টুইটে উল্লেখিত ঘটনার সাথে সম্পর্কিত দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো পরিস্থিতিতেই এই ধরনের অনৈতিক বা অশোভন আচরণ সহ্য করবে না সংস্থাটি।










































