গ্রিনল্যান্ডে মস্কো-বেইজিংকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন একটি ‘মিথ’ : রাশিয়া

প্রতীকী ছবি

রাশিয়া বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে রাশিয়া ও চীনকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপনের ন্যাটোর বক্তব্য একটি ‘মিথ’, যার উদ্দেশ্য কৃত্রিমভাবে আতঙ্ক উসকে দেওয়া। মস্কো আরো বলেছে, আর্কটিকে সংঘাত বাড়ানোর যে নীতি পশ্চিমা সামরিক জোট অনুসরণ করছে, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

রাশিয়ার এই বক্তব্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমশ কঠোর ভাষার প্রেক্ষাপটে। ট্রাম্প বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্কের এই স্বশাসিত ভূখণ্ডটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।

ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকা ডেনমার্কের সেনারা সেই কাজের জন্য যথেষ্ট সক্ষম নয়—যা কোপেনহেগেন প্রত্যাখ্যান করেছে।

ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে ও সুইডেনসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ নুক ও কোপেনহেগেনের প্রতি সমর্থন জানাতে গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে। একই সঙ্গে সেখানে একটি সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে ডেনমার্ক।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্কটিকে বিস্তৃত সামরিক ঘাঁটির নেটওয়ার্ক পুনরায় চালু ও আধুনিকায়ন করা রাশিয়া বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে পরিস্থিতির অগ্রগতি তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বৃহত্তর আর্কটিক অঞ্চলকে শান্ত ও স্থিতিশীল রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

ন্যাটোর সদর দপ্তর বেলজিয়ামে অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস ইজভেস্তিয়া পত্রিকায় দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ‘মস্কো ও বেইজিং থেকে বাড়তে থাকা হুমকির কাল্পনিক অজুহাতে ন্যাটো উত্তরের অঞ্চল দ্রুত সামরিকীকরণের পথে এগোচ্ছে এবং সেখানে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ওয়াশিংটনের উচ্চৈঃস্বরে দেওয়া বক্তব্যগুলোকে জোটটি কেবল রাশিয়া ও চীনবিরোধী এজেন্ডা এগিয়ে নিতে ব্যবহার করছে।’ এতে গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা নিয়ে সাম্প্রতিক ইউরোপীয় বক্তব্যগুলোর তালিকাও তুলে ধরা হয়।

দূতাবাস জানায়, ‘এই যুদ্ধংদেহী পরিকল্পনার উদ্যোক্তারা এমন সব কাল্পনিক চ্যালেঞ্জের কথা বলছেন, যা তারা নিজেরাই সৃষ্টি করেছে।

’ তারা উল্লেখ করে, গণমাধ্যমে উদ্ধৃত ন্যাটোর গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ে প্রবেশাধিকার থাকা পশ্চিমা কূটনীতিকরাও স্বীকার করেছেন যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের কাছে কোনো রুশ বা চীনা সাবমেরিন শনাক্ত করা হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এতে স্পষ্ট হয় যে যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে, তা কৃত্রিম।’

এই বিবৃতিতে সরাসরি ট্রাম্পের সমালোচনা করা হয়নি। এমন এক সময়ে এটি এসেছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনায় তিনি মস্কোর জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ সংলাপসঙ্গী হিসেবে বিবেচিত। বরং বিবৃতিতে ন্যাটোকে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এবং এর ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলোকেই লক্ষ্য করে সমালোচনা করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনে শান্তি প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগও তুলেছে রাশিয়া।

দূতাবাস জানায়, ‘আর্কটিকে সংঘাত বাড়ানোর ন্যাটোর নীতিকে আমরা ফলপ্রসূ নয় এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করি।’

LEAVE A REPLY