সংগৃহীত ছবি
ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম আলোচিত কোচ জোসে মরিনহো আবারও রিয়াল মাদ্রিদে ফিরতে পারেন বলে গুঞ্জন চলছে। তবে সেই ফেরা সহজ হচ্ছে না। ক্লাবটির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হলেও নিজের দ্বিতীয় অধ্যায়ের আগে একগুচ্ছ কঠিন শর্ত দিয়েছেন পর্তুগিজ এই কোচ।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, বর্তমান কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না রিয়াল।
মৌসুম শেষ হতে না হতেই দলজুড়ে অস্থিরতা, ড্রেসিংরুমে বিভাজন এবং কোচিং স্টাফের ওপর আস্থাহীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে আবারও মরিনহোকেই ‘সমাধান’ হিসেবে দেখছেন ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।
২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে রিয়ালকে তিনটি শিরোপা এনে দিয়েছিলেন মরিনহো। সেই সফলতার স্মৃতি থেকেই তাকে ফেরাতে আগ্রহী পেরেজ।
বর্তমানে বেনফিকার দায়িত্বে থাকা মরিনহোর সঙ্গে তার এজেন্ট জর্জে মেন্ডেসের মাধ্যমে আলোচনা চলছে বলেও জানা গেছে।
তবে ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্পোর্টস বাইবেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়ালে ফিরতে মরিনহো দিয়েছেন ১০টি বড় শর্ত—
কমপক্ষে দুই বছরের চুক্তি : স্বল্পমেয়াদি নয়, স্থায়ী পরিকল্পনা নিয়েই কাজ করতে চান মরিনহো।
স্কোয়াড ও ড্রেসিংরুমে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ : দল নির্বাচন বা খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনায় কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নেবেন না তিনি।
খেলোয়াড়দের প্রভাবমুক্ত কোচিং : কোনো ফুটবলারের চাপ বা মতামত তার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে না—এ অবস্থানে অনড় মরিনহো।
নিজের পছন্দের কোচিং স্টাফ : পুরো টেকনিক্যাল টিম সঙ্গে আনতে চান তিনি। যদিও আরবেলোয়া ক্লাবে থাকলে আপত্তি নেই।
ফিটনেস কোচ আন্তোনিও পিন্তুসের বিদায় : বর্তমান ফিটনেস ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্ট নন মরিনহো। তাই আন্তোনিও পিন্তুসকে সরানোর দাবি তুলেছেন তিনি।
মেডিক্যাল বিভাগের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ : বারবার চোট সমস্যায় ক্ষুব্ধ মরিনহো মেডিকেল বিভাগের ওপর সরাসরি নজরদারি চান।
মিডিয়ায় সীমিত ভূমিকা : নিজেকে শুধু কোচ হিসেবেই তুলে ধরতে চান তিনি। ক্লাবের মুখপাত্রের দায়িত্ব অন্য কাউকে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সাত খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা : বর্তমান স্কোয়াডের অন্তত সাতজনকে নিজের পরিকল্পনার বাইরে রেখেছেন মরিনহো।
শুধুই পেরেজের সঙ্গে যোগাযোগ : ক্লাবের অন্য কর্মকর্তাদের নয়, সরাসরি সভাপতি পেরেজের সঙ্গেই কাজ করতে চান তিনি।
বড় প্রাক-মৌসুম সফরে অনাগ্রহ : বাণিজ্যিক সফরের বদলে সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত প্রস্তুতি ম্যাচ চান মরিনহো, যাতে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক চাপ কম থাকে।










































