স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা ন্যাটোর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন। রোববার (১৮ জানুয়ারি) স্পেনের প্রভাবশালী দৈনিক লা ভাঙ্গুয়ার্দিয়া–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর দ্যা জাকার্তা পোস্টের।
সানচেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে শক্তি প্রয়োগ করে, তাহলে সেটি ন্যাটোর জন্য মরণঘণ্টা হবে। এতে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের মতো আগ্রাসন বৈধতা পাবে। এমন পরিস্থিতিতে পুতিন দ্বিগুণ খুশি হবেন।
তিনি আরও বলেন, ডেনমার্কের এই বিশাল আর্কটিক ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ হলে তা শুধু ইউরোপ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং আন্তর্জাতিক আইন ও পশ্চিমা জোটের নৈতিক অবস্থানকেও দুর্বল করে দেবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে নতুন করে চাপ বাড়িয়েছেন। শনিবার ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঘোষণা দেন, গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে সমঝোতা না হলে ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা ১ জুন থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশে উন্নীত হবে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ছাড়া অন্য কোনো সমাধানে রাজি হবে না। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড—দু’পক্ষই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।
এদিকে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির সমালোচনা করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে নতুন শুল্ক আরোপ করা একটি ভুল সিদ্ধান্ত হবে।
মেলোনি জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প ও ন্যাটোর মহাসচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ‘বোঝাপড়া ও যোগাযোগের ঘাটতি’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং ন্যাটোর ঐক্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।









































