বন্দুকধারীর গুলিতে থাইল্যান্ডের সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু, সব জিম্মি মুক্ত

ছবিসূত্র : রয়টার্স

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের হাত ইয়াই জেলায় একটি স্কুলে গুলি চালানো বন্দুকধারীকে বুধবার আটক করা হয় এবং জিম্মি হওয়া সবাইকে মুক্ত করা হয় বলে এক পুলিশ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। তবে গুলিতে আহত এক নারী মারা গেছেন। 

স্থানীয় পুলিশ এএফপিকে জানায়, তিনি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। সেখানে এক বন্দুকধারী গুলি চালালে তিনি আহত হন এবং পরে মারা যান।

কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি বন্দুক নিয়ে ফাতং প্রাথান খিরিওয়াত স্কুলে প্রবেশ করলে পুলিশ তাকে গুলি করে আটক করে। স্থানীয় গণমাধ্যম তাকে ১৮ বছর বয়সী এক যুবক হিসেবে শনাক্ত করেছে। কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, এসময় বেশ কয়েকটি গুলি ছোড়া হয়।

হাত ইয়াই শহরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের জন্য পাঠানোর পর বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় ৩টার দিকে হাত ইয়াই হাসপাতালে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মারা যান।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, ‘গুলিবর্ষণকারীও চিকিৎসার জন্য একই হাসপাতালে ভর্তি ছিল।’

স্কুলটির পক্ষ থেকে ফেসবুক পোস্টে প্রধান শিক্ষক সাসিফাত সিনসামোসর্নের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়, ‘আমরা তাকে হারিয়েছি, কিন্তু তিনি যে স্মৃতি ও মানবিকতা রেখে গেছেন, তা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে অম্লান থাকবে।’

শহরের থুং লুং এলাকার এক পুলিশ কর্মকর্তাও প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতালের এক প্রতিনিধি গোপনীয়তা নীতির কথা উল্লেখ করে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এ ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। আরেক শিশু ‘উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়ায়’ গোড়ালিতে আঘাত পেয়েছে বলেও জানানো হয়।

থাইল্যান্ডে এ অঞ্চলের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানার হার অন্যতম সর্বোচ্চ। দেশটিতে প্রায় এক কোটি আগ্নেয়াস্ত্র প্রচলিত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়—অর্থাৎ প্রতি সাতজন বাসিন্দার বিপরীতে একটি অস্ত্র।

অস্ত্র আইন কঠোর করার অতীতের প্রতিশ্রুতিগুলোও বারবার ঘটে যাওয়া এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঠেকাতে পারেনি।

২০২২ সালে দেশটির উত্তরে এক সাবেক পুলিশ সদস্য বন্দুক ও ছুরি নিয়ে একটি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ২৪ শিশু ও ১২ প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যা করে। এটি ছিল থাইল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।

সূত্র : আলঅ্যারাবিয়া

LEAVE A REPLY