৪৫ দিনের ‘বিশ্রাম’ চেয়েছিলেন ট্রাম্প, ইরান যা বলল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ৩৯ দিন ধরে ইরানে যৌথভাবে আগ্রাসন চালাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে কড়া জবাব দিয়ে যাচ্ছে তেহরানও। ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়েপড়া এই সংঘাত বন্ধে মধ্যস্ততা করছে পাকিস্তান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘বুঝিয়ে’ ইসলামাবাদ মধ্যস্ততাকারী হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরও বের হয়েছে।

ট্রাম্পের আগ্রহে পাকিস্তান আলোচনার আয়োজন করায় শুরু থেকেই যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত বন্ধের প্রস্তাবগুলো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করে আসছে। আর দফায় দফায় সেগুলো প্রত্যাখ্যান করছে তেহরান। গত ৫ এপ্রিল ইরানের আকাশে একে একে দুটি মার্কিন শক্তিশালী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর দেশটির কাছে নতুন করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠায় আলোচনাকারী পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশর। এতে ৪৫ দিনের ‘নিস্তার’ বা বিরতি চাওয়া হয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের একান্ত চাওয়া ছিল বলে প্রস্তাবটি ছুড়ে ফেলে দিয়েছে ইরান।

৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের

সোমবার (৬ এপ্রিল) ইরান ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চায়। এদিকে ট্রাম্প বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু থেকে পুরো ইসলামী প্রজাতন্ত্র পর্যন্ত তার হুমকি বিস্তৃত করেছেন এবং তার চরমপত্রের সময়সীমাও ঘনিয়ে এসেছে।

হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘পুরো দেশটাকে (ইরান) এক রাতেই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যেতে পারে, আর সেই রাতটা হতে পারে আগামীকাল রাত (মঙ্গলবার)।’ 

তিনি ইরানকে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য মঙ্গলবার রাত ৮টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার অথবা বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলার মুখোমুখি হওয়ার হুমকি ইরানের বিরুদ্ধে বাড়িয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, প্রথম দিনের পর আজ (সোমবার) সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হামলা চালানো হবে। আগামীকাল আজকের চেয়েও বেশি।

ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না, মোটেই না।’ 

ইরানিরা কেন চাইবে তিনি এই হুমকি কার্যকর করুন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নাগরিকরা ‘স্বাধীনতার জন্য কষ্ট সহ্য করতেও প্রস্তুত।’

ইসরাইল ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানির বৃহত্তম উৎস একটি প্রধান গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালিয়ে চাপ বাড়িয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, তেহরান তার ১০-দফা জবাব দিয়েছে পাকিস্তানের মাধ্যমে, যা একটি প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ। এই জবাবে পুনর্গঠন ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কায়রোতে ইরানের কূটনৈতিক মিশনের প্রধান মোজতবা ফেরদৌসি পুর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, ‘আমরা কেবল তখনই যুদ্ধের অবসান মেনে নেব, যখন আমাদের ওপর আর হামলা হবে না, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, আলোচনার আগের পর্বগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র দুবার ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে বোমা হামলা চালানোর পর ইরান আর ট্রাম্প প্রশাসনকে বিশ্বাস করে না।

সূত্র: এপি।

LEAVE A REPLY