আটলান্টিক মহাসাগরে ২০০৯ সালে বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার ফ্রান্সের ফ্লাইট এএফ-৪৪৭ দুর্ঘটনার ঘটনায় এয়ার ফ্রান্স ও উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসকে অনিচ্ছাকৃত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে ফ্রান্সের প্যারিস আপিল আদালত।
বৃহস্পতিবার দেওয়া রায়ে বলা হয়, রিও ডি জেনেইরো থেকে প্যারিসগামী ফ্লাইটটির দুর্ঘটনার জন্য এয়ারলাইন ও বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ এবং এককভাবে দায়ী।
দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটিতে থাকা ২১৬ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রুসহ মোট ২২৮ জন নিহত হন। এটি ফরাসি উড়োজাজাজ চলাচলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
তালেবানের নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগান নারীরা
এর আগে ২০২৩ সালের এপ্রিলে এক আদালত এয়ার ফ্রান্স ও এয়ারবাসকে দায়মুক্তি দিলেও আট সপ্তাহের দীর্ঘ শুনানি শেষে এবার তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হলো। তবে উভয় প্রতিষ্ঠানই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় বিমানটি প্রবল ঝড়ের মধ্যে পড়ে স্টল করে এবং ৩৮ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে আটলান্টিক মহাসাগরে পড়ে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্রতল এলাকায় ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়। তবে ব্ল্যাক বক্স বা ফ্লাইট রেকর্ডার উদ্ধার করতে ২০১১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি কিউবা : মার্কো রুবিও
বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার সময় নিহতদের স্বজনরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন ফরাসি, ব্রাজিলীয় ও জার্মান নাগরিক।
আদালত এয়ার ফ্রান্স ও এয়ারবাসকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ২৫ হাজার ইউরো করে জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে। তবে নিহতদের পরিবারের অনেক সদস্য এই অর্থকে ‘প্রতীকী শাস্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
এএফ-৪৪৭ ভিকটিমস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড্যানিয়েল ল্যামি, যিনি দুর্ঘটনায় নিজের ছেলেকে হারিয়েছেন, আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, অসহনীয় এক সামষ্টিক ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হওয়া পরিবারগুলোর কষ্টকে অবশেষে বিচারব্যবস্থা গুরুত্ব দিয়েছে।প্রসিকিউটররা শুনানিতে অভিযোগ করেন, এয়ার ফ্রান্স ও এয়ারবাসের আচরণ ছিল ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং তারা ভিত্তিহীন যুক্তি তুলে ধরেছিল।
দুর্ঘটনার পর আটলান্টিক মহাসাগরের দুর্গম এলাকায় জটিল উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। দক্ষিণ আমেরিকার উপকূল থেকে প্রায় ৭০০ মাইল দূরে অনুসন্ধান পরিচালিত হয়। প্রথম ২৬ দিনের অভিযানে ৫১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের অনেকেই তখনও নিজেদের আসনে বাঁধা অবস্থায় ছিলেন।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন ব্রিস্টলের ১১ বছর বয়সী ব্রিটিশ শিশু আলেকজান্ডার বিয়োরয়, তিনজন আইরিশ নারী চিকিৎসক এবং ব্রাজিলের রাজপরিবারের সদস্য ২৬ বছর বয়সী প্রিন্স পেদ্রো লুইজ ডি অরলিয়েন্স ই ব্রাগানসা।
ফ্লাইটটিতে মোট ৩৩টি দেশের যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ৬১ জন ফরাসি, ৫৮ জন ব্রাজিলীয়, ২৬ জন জার্মান, পাঁচজন ব্রিটিশ ও তিনজন আইরিশ নাগরিক ছিলেন।
২০১২ সালে ফরাসি তদন্তকারীরা জানান, বিমানের গতিমাপক সেন্সরের ত্রুটি এবং পাইলটদের ভুল প্রতিক্রিয়ার সমন্বয়েই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তদন্তে বলা হয়, ভুল গতির তথ্য পেয়ে পাইলটরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং বিমান স্টল করার সময় সেটিকে নিচের দিকে না নামিয়ে উল্টো ওপরে তোলার চেষ্টা করেন, যা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।
দুর্ঘটনার পর পাইলটদের প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয় এবং বিমানের ত্রুটিপূর্ণ গতিমাপক সেন্সরগুলো পরিবর্তন করা হয়।
সূত্র : বিবিসি











































