সৌরভ গাঙ্গুলী। ছবি: সংগৃহীত
ক্রিকেট কিংবদন্তি সৌরভ গাঙ্গুলির নিরাপত্তা কমাল ভাতরের পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গত তিন বছর ধরে ‘জেড ক্যাটাগরি’র নিরাপত্তা পাওয়া ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক এবং সিএবি সভাপতির নিরাপত্তা দুই ধাপ নামিয়ে ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’ করে দেওয়া হয়েছে।
ভারতে প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ, হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, প্রথম সারির রাজনীতিক এবং শীর্ষ আমলারা বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন— ‘এক্স’, ‘ওয়াই’ এবং ‘জেড’। ওয়াই’ এবং ‘জেড’-এর ক্ষেত্রে ‘প্লাস’ বলে আলাদা একটি ক্যাটাগরি থাকে।
এ ছাড়া সরকারি নির্দেশে শিল্পপতি, তারকা, খেলোয়াড়সহ বিশিষ্ট নাগরিকেরাও নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। কার জীবনের ঝুঁকি কতটা তা খতিয়ে দেখে ঠিক করা হয় তিনি কোন পর্যায়ের নিরাপত্তা পাবেন।
‘জেড ক্যাটাগরি’তে সুরক্ষার দায়িত্বে অন্তত ৩৫ জন থাকেন। তার মধ্যে থাকেন রাজ্য পুলিশের কমান্ডো। এ ছাড়া রাজ্য সরকারের ‘জেড ক্যাটাগরি’তে পাইলট কারও থাকে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌরভের নিরাপত্তার দায়িত্বে ৮ থেকে ১০ জন পুলিশ মোতায়েন ছিল।২০২৩-র মাঝামাঝি পর্যন্ত ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’র নিরাপত্তা পেতেন সাবেক এই ক্রিকেটার। তখন কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের তিনজন তার নিরাপত্তায় থাকতেন। সৌরভের বাড়িতেও পুলিশকর্মীরা নিরাপত্তায় থাকতেন। তবে ২০২৩-র মে মাসে তার নিরাপত্তা বাড়িয়ে ‘জেড ক্যাটাগরি’ করে দেয় তৎকালীন তৃণমূল সরকার।
এবার দুই ধাপ কমিয়ে ফের সেটাকে ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’তে ফিরিয়ে আনল বর্তমান বিজেপি সরকার।সাধারণত ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’তে নিরাপত্তার দায়িত্বে ৩ থেকে ৪ জন থাকেন। তার মধ্যে দুজন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী থাকেন।
রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিরাপত্তা কোনো রাজনৈতিক নেতাকেই দেওয়া হবে না। এমনকি রাজনীতিবিদ ছাড়া কারা সরকারি নিরাপত্তা পান, সেটাও খতিয়ে দেখা হয়।
সরকার বদলের পর তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তাও কমিয়ে দেওয়া হয়। ‘জেড প্লাস’ নয়, একজন সাংসদ হিসেবে যে নিরাপত্তা তার প্রাপ্য তা বরাদ্দ করা হয়। পরে অবশ্য সোনারপুরে জনরোষের শিকার হওয়ার পর তাকে ‘এক্স ক্যাটাগরি’র নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
এর পাশাপাশি তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার ছাড়াও তৃণমূলের ১০ নেতার নিরাপত্তা কমানো হয়। ফিরহাদ হাকিম পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী এবং মেয়র হিসেবে ‘জেড ক্যাটেগরি’র নিরাপত্তা পেতেন। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা ভোটে হেরে গিয়েছেন। কাজেই সেই হিসেবেই নিরাপত্তা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় এবার কমানো হলো সৌরভের নিরাপত্তা।










































