‘ভূতের বাড়ি’তে রাত কাটালেই মিলবে রাশি রাশি টাকা

সংগৃহীত ছবি

জাপানে আবাসন খাতে এক ব্যতিক্রমী পেশার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এই কাজে সাহসী মানুষদের টাকা দিয়ে এমন বাড়িতে এক রাত থাকতে বলা হয়, যেগুলোকে স্থানীয়ভাবে ‘ভৌতিক’ বা ‘অতিপ্রাকৃত’ বাড়ি হিসেবে মনে করা হয়।

বাড়ির মালিকেরা আশা করেন, এভাবে প্রমাণ করা যাবে যে বাড়িগুলোতে কোনো অতিপ্রাকৃত ঘটনা ঘটে না। এতে ক্রেতা ও ভাড়াটিয়াদের ভয় কমবে এবং দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকা এসব বাড়ি আবার বিক্রি বা ভাড়া দেওয়া সহজ হবে। জাপানে এই ধরনের বাড়িকে বলা হয় ‘জিকো বুক্কেন’। এসব বাড়িতে অতীতে হত্যা, আত্মহত্যা, অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু বা একাকী মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটেছে।‘একাকী মৃত্যু’ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে কোনো বৃদ্ধ ব্যক্তি একা মারা যান এবং কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত কেউ সেই মৃত্যুর খবর জানতে পারেন না। জাপানের আইন অনুযায়ী, কোনো বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সেটি বিক্রি বা ভাড়া দেওয়ার আগে সম্ভাব্য ক্রেতা বা ভাড়াটিয়াকে বিষয়টি জানানো বাধ্যতামূলক। এই কারণেই অনেক মানুষ এসব বাড়ি কিনতে বা ভাড়া নিতে চান না। ফলে হাজার হাজার বাড়ি বছরের পর বছর খালি পড়ে থাকে।

এই সমস্যা সমাধানে নতুন ধরনের সেবা চালু হয়েছে। এতে বিশেষভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা ওই বাড়িতে এক রাত অবস্থান করেন। এই কাজের জন্য তারা ৮৮ হাজার ইয়েন পারিশ্রমিক পান। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬৭ হাজার টাকার সমান। রাত কাটানোর সময় তারা বাড়ির বিভিন্ন স্থানে ক্যামেরা ও অন্যান্য পর্যবেক্ষণ যন্ত্র বসিয়ে পুরো বাড়ি নজরদারিতে রাখেন।যদি পুরো রাত কোনো অস্বাভাবিক বা অতিপ্রাকৃত ঘটনার প্রমাণ না মেলে, তাহলে তারা একটি সনদ দেন। সেই সনদে উল্লেখ থাকে, বাড়িটিতে কোনো অতিপ্রাকৃত কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিছু প্রতিষ্ঠান আরো এক ধাপ এগিয়ে গেছে। তারা এমন নিশ্চয়তাও দিচ্ছে যে, কোনো বাড়িকে নিরাপদ ঘোষণা করার পর ভবিষ্যতে যদি সত্যিই অতিপ্রাকৃত ঘটনার প্রমাণ মেলে, তাহলে তারা ক্ষতিপূরণ দেবে।

জাপানে এই সেবার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ হলো দেশটিতে খালি বাড়ির সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে যাওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানে জন্মহার কমে যাওয়া, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শহরমুখী জনসংখ্যার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লাখ লাখ বাড়ি খালি পড়ে আছে। এর মধ্যে যেসব বাড়িতে অতীতে অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে, সেগুলো সাধারণত একই ধরনের অন্য বাড়ির তুলনায় ২০ থেকে ৫০ শতাংশ কম দামে বিক্রি বা ভাড়া দেওয়া হয়। আগে মানুষ এসব বাড়ি এড়িয়ে চললেও এখন পরিস্থিতি কিছুটা বদলাচ্ছে। বিশেষ করে কম দামে ভালো বাড়ি খুঁজছেন এমন তরুণ ক্রেতাদের কাছে এসব বাড়ির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তাদের অনেকেই মনে করেন, কুসংস্কারের চেয়ে কম দামে বাড়ি কেনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন পেশার মূল লক্ষ্য মানুষের মনে থাকা ভৌতিক বাড়ির ভয় দূর করা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন খালি থাকা বাড়িগুলো আবার ব্যবহারযোগ্য করে তোলা এবং মালিকদের জন্য ক্রেতা বা ভাড়াটিয়া খুঁজে পাওয়াও সহজ হচ্ছে। আবাসন ব্যবসা ও তথাকথিত ভূত অনুসন্ধান- দুই ধারণাকে একসঙ্গে মিলিয়ে এই পেশা এখন জাপানের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ও আলোচিত বিশেষায়িত পেশাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
 

LEAVE A REPLY