চূড়ান্ত সমঝোতার বাধা কোথায়?

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও এর সময়, পদ্ধতি ও বিষয়বস্তু নিয়ে এখনও ব্যাপক অনিশ্চয়তা রয়েছে। 

সাম্প্রতিক দু’পক্ষের বিভিন্ন বক্তব্যগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে সমঝোতা স্মারকটি শিগগিরই স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে, তবে এটি সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে হবে, নাকি ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা বলছে, গত কয়েক দিনে সুইজারল্যান্ডে একটি সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতির খবর প্রকাশিত হলেও এখন সে বিষয়ে আর কোনো আলোচনা শোনা যাচ্ছে না। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এটিকে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ইরান এখনও স্বাক্ষর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সময়সূচি নয়, চুক্তির প্রকৃত বিষয়বস্তু নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

এদিকে সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টিকেও যুক্ত করে বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।অথচ আগে বলা হয়েছিল, পারমাণবিক ইস্যুসহ গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত বিষয়গুলো চুক্তি-পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনায় নিষ্পত্তি করা হবে।

অন্যদিকে ইরানও তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে ফি আরোপ, বিদেশে জব্দ থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয়গুলো সামনে আনছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, উভয় পক্ষই সমঝোতা স্মারকের প্রাথমিক শর্তগুলোকে নিজেদের চূড়ান্ত রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করছে। এর মাধ্যমে তারা নিজ নিজ জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নিজেদের অবস্থানকে গ্রহণযোগ্য ও সফল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সমঝোতা স্মারকটি কেবল একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। প্রকৃত চ্যালেঞ্জ এবং সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনায়। সেখানেই পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর ইস্যুতে দুই পক্ষের সমঝোতা কতটা সম্ভব, তা নির্ধারিত হবে।

LEAVE A REPLY