পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের নির্বাচনে সহিংসতা, নিহত বেড়ে ২০

সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) তথাকথিত আইনসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ভোটকে কেন্দ্র করে পিওকের জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) আয়োজিত ‘লং মার্চ’ চলাকালে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০ জনে পৌঁছেছে।এতে আরো কয়েক ডজন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন। ফলে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেএএসি জানায়, লং মার্চের বহর রাওয়ালাকোট শহরে পৌঁছেছে। এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে।এ ছাড়া একজনের মাথায় গুলির আঘাত পাওয়া গেছে, তবে তার এখনো পরিচয় মেলেনি। তার মরদেহ পালান্দ্রি হাসপাতালে রয়েছে। ফলে মোট নিহতের সংখ্যা অন্তত ২০ জনে দাঁড়িয়েছে।

সংগঠনটির সমর্থকদের অভিযোগ, রাওয়ালাকোটে বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর হাজারো বিক্ষোভকারী মুজাফফরাবাদের দিকে পদযাত্রা শুরু করেন।

এদিকে তিন ধাপে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন আগামী ১০ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা। তবে নির্বাচন শুরুর দিনই সরকারবিরোধী চলমান বিক্ষোভের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও ভারত শুরু থেকেই পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয় না। নয়াদিল্লির অবস্থান, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যার মধ্যে পিওকে ও গিলগিট-বালতিস্তানও রয়েছে, ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পিওকেতে চলমান অস্থিরতা ওই অঞ্চলে পাকিস্তানের ‘পদ্ধতিগত শোষণ’ ও ‘প্রশাসনিক নিপীড়নের’ ফল।

ভোট জালিয়াতির অভিযোগ প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের

এদিকে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) অভিযোগ করেছে, ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সমর্থকদের গুলিতে তাদের কর্মী মুখতার ইউনুস নিহত হয়েছেন এবং আরো দুজন আহত হয়েছেন।

পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোথায়? নির্বাচন কমিশন কী করছে?’

পিপিপি ও পিএমএল-এন উভয়ই বিভিন্ন আসনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ করেছে। সংঘর্ষের কারণে কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণও বন্ধ রাখতে হয়।

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নির্বাচন বর্জন করেছে। অন্যদিকে জেএএসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পিটিআইয়ের দাবি, গত মাসে জেএএসি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের পর সহিংসতায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ওই আন্দোলনের জেরে প্রায় ৫০ দিন ধরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত ছিল।

জেএএসি আইনসভায় শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল, আটক কর্মীদের মুক্তি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে সরকার এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করলে আলোচনা ভেঙে যায় এবং মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু হয়।

চলমান বিক্ষোভের কারণে সুধনোতি ও রাওয়ালাকোট জেলায় নির্ধারিত নির্বাচন স্থগিত করে আগামী ১০ আগস্ট নেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY