যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় নিহত ৪, ছেলের অপরাধে বাবার ১৫ বছরের কারাদণ্ড

ছবি : রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুলে বন্দুক হামলায় চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় হামলাকারী কিশোরের বাবা কলিন গ্রেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের চালানো গণগুলির ঘটনায় কোনো অভিভাবককে ফৌজদারিভাবে দায়ী করে দোষী সাব্যস্ত করার এটি তৃতীয় ঘটনা।

২০২৪ সালে জর্জিয়ার উইন্ডারের অ্যাপালাচি হাই স্কুলে ওই হামলায় দুই শিক্ষক ও দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনায় ৫৫ বছর বয়সী কলিন গ্রে হত্যা, অনিচ্ছাকৃত হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগে মার্চ মাসে দোষী সাব্যস্ত হন।

গত সপ্তাহে তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে কোল্ট গ্রে হামলার দায় স্বীকার করে। তদন্তে জানা যায়, হামলায় ব্যবহৃত রাইফেলটি তার বাবার দেওয়া উপহার ছিল।

প্রসিকিউটরদের দাবি, এই হামলা ঠেকানোর সুযোগ একমাত্র কলিন গ্রেরই ছিল। হামলায় নিহতরা হলেন ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ক্রিশ্চিয়ান অ্যাঙ্গুলো ও মেসন শেরমারহর্ন, ৩৯ বছর বয়সী শিক্ষক রিচার্ড অ্যাসপিনওয়াল এবং ৫৩ বছর বয়সী শিক্ষিকা ক্রিস্টিনা ইরিমি।

বৃহস্পতিবার বিচারক নিকোলাস প্রিম রায়ে কলিন গ্রেকে প্রতিটি দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে ১৫ বছর এবং প্রতিটি অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১৫ বছর কারাভোগ করতে হবে।

এ মামলায় প্রসিকিউটররা সর্বোচ্চ ৮০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ ১০ বছরের সাজা দেওয়ার আবেদন করেছিল। সাজা ঘোষণার আগে বিচারক নিকোলাস প্রিম সরাসরি কলিন গ্রেকে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করেন। 

তিনি বলেন, ছেলে কোল্টকে কাউন্সেলিংয়ে না পাঠানো, তার অনলাইন কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ না করা এবং বাড়ির বন্দুকগুলো নিরাপদে তালাবদ্ধ করে না রাখার ক্ষেত্রে তিনি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

বিচারক বলেন, ‘আপনি একজন অভিভাবক হিসেবে ব্যর্থ হয়েছেন।একের পর এক সতর্ক সংকেত দেখা যাচ্ছিল, কিন্তু এই ঘটনা ঠেকাতে আপনি সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেননি।’ তবে তিনি এও বলেন, কলিন গ্রে নিজে কাউকে হত্যা করতে চাননি এবং গুলিও চালাননি।

বিচার চলাকালে আদালত জানতে পারে, হামলার আগের বড়দিনে কলিন গ্রে তার ছেলেকে একটি এআর-স্টাইলের রাইফেল কিনে দিয়েছিলেন। অথচ এর সাত মাস আগে স্কুলে গুলি চালানোর অনলাইন হুমকির অভিযোগে পুলিশ কোল্ট গ্রেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।

প্রসিকিউটরদের দাবি, কলিন গ্রে ছেলের সহিংস আচরণ ও মানসিক অবনতির একাধিক সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করেন। এমনকি একটি নোটবুকেও স্কুলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হত্যার পরিকল্পনা লেখা ছিল।

সহকারী জেলা অ্যাটর্নি প্যাট্রিসিয়া ব্রুকস আদালতে বলেন, ছেলের বিপজ্জনক আচরণের স্পষ্ট লক্ষণ দেখার পরও তাকে থামানোর পরিবর্তে কলিন গ্রে তার হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, এই ঘটনার জন্য দায়ী একমাত্র কোল্ট গ্রেই।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জিমি ব্যারি আদালতে বলেন, স্কুলে ঢুকে চারজনকে গুলি করে হত্যা এবং আরো অনেককে আহত করেছে কোল্ট গ্রে। তার ভাষায়, ‘এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী তিনিই। সে পরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরের বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার ঘটনা এখনও খুবই বিরল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন কয়েকটি মামলাই আদালতে উঠেছে।

২০২৪ সালের এপ্রিলে মিশিগানে এক কিশোরের বাবা-মাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের কেনা একটি বন্দুক ব্যবহার করে ওই কিশোর চারজন শিক্ষার্থীকে হত্যা করেছিল। এ ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো কোনো শিশুর চালানো গণগুলির ঘটনায় তার বাবা-মাকে ফৌজদারিভাবে দায়ী করার নজির হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় আসে।

LEAVE A REPLY