নরওয়ের রাজকুমারীর ফুসফুস প্রতিস্থাপন সফল

ছবি : রয়টার্স

নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের সফলভাবে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে তাকে আরো কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হবে বলে বুধবার জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

রাজপরিবারের জন্য এই ফুসফুস প্রতিস্থাপন এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন তারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সপ্তাহের শুরুতে, ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের আগের সম্পর্কের ২৯ বছর বয়সী ছেলে মারিয়াস বোরগ হোইবি ধর্ষণ  মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। তবে তার আইনজীবী জানিয়েছেন, হোইবি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হাকনের ৫২ বছর বয়সী স্ত্রী মেটে-মারিট ২০১৮ সালে পালমোনারি ফাইব্রোসিসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হন।এই দীর্ঘমেয়াদি রোগে ফুসফুসে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং শরীরের অক্সিজেন গ্রহণের ক্ষমতা কমে যায়।

অসলো বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল জানিয়েছে, ফুসফুস প্রতিস্থাপন সফল হয়েছে। তবে অস্ত্রোপচারটি ঠিক কবে করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। হাসপাতালের অধ্যাপক আরো হোম বলেন, অন্য রোগীদের মতো মেটে-মারিটকেও কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হবে।এ সময় তার ওষুধের মাত্রা সমন্বয়, সম্ভাব্য জটিলতার চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম চলবে।

গত ৫ জুন তার স্বাস্থ্যের হঠাৎ অবনতি হওয়ায় তাকে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়। চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচার ছাড়া তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই সীমিত ছিল। রাজপ্রাসাদ জানিয়েছে, সমর্থন ও শুভকামনার জন্য যুবরাজ ও যুবরানী জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার পরবর্তী তথ্য জানানো হবে।

নরওয়েতে প্রতি বছর প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয় না।

তারা আরো জানায়, এর আকার সঠিক হতে হবে, রক্তের গ্রুপও সঠিক হতে হবে এবং আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, গ্রহীতার শরীরে ওই অঙ্গের টিস্যুর ধরনের বিরুদ্ধে কোনো অ্যান্টিবডি নেই। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সঠিক অঙ্গটি সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়া। এর মানে হলো, সফলতার সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য অনেকগুলো বিষয়কে অনুকূলে থাকতে হয়।

অসলো বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, নরওয়েতে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা রোগীদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ অস্ত্রোপচারের পর অন্তত এক বছর বেঁচে থাকেন। আর প্রায় ৫৫ শতাংশ রোগী ১০ বছর বা তারও বেশি সময় জীবিত থাকেন।

গত ডিসেম্বরে যুবরাজ হাকন জানিয়েছিলেন, মেটে-মারিটের শারীরিক অবস্থার ওঠানামা হচ্ছিল এবং তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়েছিল। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরে রাজকুমারীর অসুস্থতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলার প্রশংসা করেন। তার মতে, এতে একই রোগে আক্রান্ত অন্য মানুষ উপকৃত হতে পারেন।

মেটে-মারিটের সঙ্গে যুবরাজ হাকনের পরিচয় হয় ১৯৯৯ সালে একটি সঙ্গীত উৎসবে। তখন তিনি একজন একক মা এবং সাধারণ পরিবারের সদস্য ছিলেন। তাদের সম্পর্ক শুরুতে বিতর্কের জন্ম দিলেও পরে তা নরওয়ের সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় রাজকীয় প্রেমকাহিনীগুলোর একটিতে পরিণত হয়।

কিন্তু এ বছর একের পর এক কেলেঙ্কারির কারণে নরওয়ের রাজতন্ত্রের প্রতি জনসমর্থন কমে গেছে বলে জনমত জরিপে দেখা গেছে। বিশেষ করে মেটে-মারিটের ছেলে মারিয়াস বোরগ হোইবির বহুল আলোচিত বিচার ও সাজা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

এদিকে, নরওয়ের রাজকুমারী মার্থা লুইস প্রয়াত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে অতীতে সম্পর্ক থাকার জন্য রাজা ও রানির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি জানান, এপস্টাইনকে একসময় বন্ধু মনে করলেও তার মৃত্যুর কয়েক বছর আগেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, নরওয়েতে রাজতন্ত্র বজায় রাখার পক্ষে সমর্থন রেকর্ড সর্বনিম্ন ৬০ শতাংশে নেমে আসে। তবে মে মাসে সেই সমর্থন কিছুটা বেড়ে ৬৪ শতাংশে পৌঁছায়।


LEAVE A REPLY