১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত, তীব্র পানিসংকটে মুম্বাই

সংগৃহীত ছবি

এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক জুন মাসের মুখোমুখি হয়েছে ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাই। জলাধারগুলোর পানি দ্রুত কমে যাওয়ায় বুধবার থেকে নির্মাণ প্রকল্পে পানি সরবরাহ বন্ধ এবং শিল্প খাতে পানির ব্যবহার ২০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

৪০ দিনের মজুদ

মুম্বাইয়ের পানির প্রধান উৎস শহরের বাইরে অবস্থিত ৭টি হ্রদ বা জলাধার। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে এসব জলাধারে মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ পানি অবশিষ্ট রয়েছে। এতে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের শহরটির জন্য মাত্র ৪০ দিনের পানির মজুদ রয়েছে।

নগর কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার থেকে সব নির্মাণস্থলের পানির সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হবে।পাশাপাশি নতুন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য পানির সংযোগ দেওয়াও স্থগিত রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ক্রীড়া ক্লাবগুলোর পানি সরবরাহও ২০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই ১০ শতাংশ পানি ব্যবহারে কাটছাঁট করা হয়েছিল।

বৃষ্টিপাত ৭৫ শতাংশ কম

মহারাষ্ট্র রাজ্যের আবহাওয়া কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, জুনের প্রথম ১৬ দিনে রাজ্যটিতে স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৫ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সাধারণত জুনের প্রথম সপ্তাহেই মুম্বাইয়ে মৌসুমি বায়ু (বর্ষা) প্রবেশ করে। তবে চলতি বছর এ মাসের শেষ দিকে বর্ষা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এক আবহাওয়া কর্মকর্তা বলেন, ‘সাধারণত জুনে মুম্বাইয়ে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি হয় এবং জুনের মাঝামাঝি থেকে নিয়মিত বর্ষণ শুরু হয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।’

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

মুম্বাইয়ের অধিকাংশ নির্মাণ প্রকল্প বাণিজ্যিক পানির ট্যাংকারের ওপর নির্ভরশীল।রিয়েল এস্টেট খাতের সংগঠন ক্রেডাই-এমসিএইচআইয়ের সভাপতি সুখরাজ নাহার বলেন, বর্ষা শিগগিরই শুরু হওয়ার আশা থাকায় ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না।

তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শহরের অন্যতম শীর্ষ আবাসন উদ্যোক্তা এবং হিরানন্দানি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন হিরানন্দানি। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি আসা পর্যন্ত আমরা ১০ দিন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারব। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কোথায়?’

এদিকে গত ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল মৌসুমি বৃষ্টিপাতের মুখোমুখি হয়েছে ভারত। এতে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়া এবং খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বর্ষার বিলম্ব ও বৃষ্টির ঘাটতি অব্যাহত থাকলে শুধু মুম্বাই নয়, ভারতের অন্যান্য অঞ্চলেও পানি সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY