নেতানিয়াহুর ওপর চাপ বাড়ছে ইসরাইলের ভেতর থেকেই, তবে কী ইরান যুদ্ধ ভুল ছিল?

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোটা কি আদৌ লাভজনক ছিল? এমন প্রশ্ন তুলেছেন ইসরাইলেরই এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল এবং বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে এমন মন্তব্য করলেন তিনি। খবর মিডেল ইস্ট আইর।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম আই২৪ নিউজকে দেওয়া ওই কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘অভিযানের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা যদি আমরা আগে জানতাম, তবে কোনোভাবেই আমরা এই পথে পা বাড়াতাম না।’

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তির পর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর কেবল তেহরান নয়, বরং নিজ দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহল থেকেও চরম চাপ তৈরি হয়েছে। 

গত জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে ১২ দিনের যে যুদ্ধ ইসরাইল চালিয়েছিল, তার ফলাফল নিয়ে দেশজুড়ে এখন তীব্র ক্ষোভ।

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু তার অবস্থানে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘দশক ধরে আমি ইরানের পারমাণবিক উচ্চাভিলাষের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছি। একে আমি আমার জীবনের ব্রত মনে করি।’ 

তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের এই অভিযানে ইরানের বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং দেশটির অর্থনীতি কয়েক দশক পিছিয়ে গেছে। নেতানিয়াহুর ভাষ্যমতে, এই যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল ইসরাইলকে ‘পারমাণবিক ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা’।

১৪ জুন পাকিস্তান যখন ঘোষণা করে যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি হয়েছে, তখন থেকেই ইসরাইলি সমাজের ভেতর শঙ্কা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ইরান এখন আগের চেয়েও শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

চ্যানেল ১৩ নিউজের অভিজ্ঞ সামরিক বিশ্লেষক অ্যালন বেন ডেভিড সতর্ক করে বলেছেন, এই চুক্তি ইসরাইলের জন্য একটি বড় ধাক্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির অবস্থানের জন্য সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ‘এটি ইসরাইলের জন্য একটি নাটকীয় দিন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।’

সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই যুদ্ধের পর ইরান উলটো রাজনৈতিকভাবে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেছে। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, নেতানিয়াহু এই যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন, যা শেষ পর্যন্ত তাকে একটি কৌশলগত পরাজয়ের দিকেই ঠেলে দিয়েছে।

অভ্যন্তরীণ এই সমালোচনা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় নেতানিয়াহু সরকার এখন এক গভীর সংকটে রয়েছে, যেখানে যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে বড় গলায়।

LEAVE A REPLY