ইরান চুক্তির জন্য সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছেন হতাশ ট্রাম্প : মোজতবা খামেনি

ছবি : রয়টার্স

সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের একদিন পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি প্রথম এই বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে বলেন, ‘মার্কিন নেতা (ট্রাম্প) একটি চুক্তির জন্য ‘মরিয়া’ হয়েছিলেন এবং এই চুক্তি করতে তিনি ‘সব ধরনের চাপ’ দিয়েছেন।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান খসড়া চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দেওয়া নিজের প্রথম বিবৃতিতে মোজতবা ইরানের জনগণকে বলেন, তিনি প্রাথমিকভাবে ‘নীতিগত কারণে’ চুক্তিটির বিরোধিতা করেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের কাছ থেকে ‘ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষার’ আশ্বাস পাওয়ার পর অবশেষে এতে অনুমোদন দেন।

তিনি আরো বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আন্তরিক উদ্বেগ ও সদিচ্ছা থেকে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।তবে অবশ্যই মার্কিন প্রেসিডেন্টই মরিয়া হয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের প্রভাব খাটিয়েছেন।’

গতকাল ১৮ জুন ট্রাম্প এবং পেজেশকিয়ান কয়েক মাসের সংঘাতের অবসান এবং বৃহত্তর আলোচনার পথ উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ প্রাথমিকভাবে স্বাক্ষর করার পর, উভয় নেতা ভার্চুয়ালি এই দলিলে স্বাক্ষর করেন।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি মেনে না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

মোজতবার লিখিত বিবৃতিতে চুক্তি নিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ আলোচনার একটি বিরল চিত্র উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ‘ইরানের প্রেসিডেন্ট তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অতিরিক্ত বা বাড়াবাড়ি দাবি তেহরান প্রত্যাখ্যান করবে।’

তিনি আরো জানান, ‘প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে বলেছেন, মার্কিন পক্ষ যদি অতিরিক্ত দাবি তোলে, তাহলে ইরান তা মেনে নেবে না।’ তিনি চুক্তিকে সমর্থন করে বলেন, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনা হলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান মেনে নেওয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতের এই আলোচনার অর্থ কোনোভাবেই শত্রুপক্ষের অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া নয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি খামেনির বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার সময় ইরান তার স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তিনি বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরবর্তী আলোচনা পর্যায়ে সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা অনুসরণ করবে এবং দেশের অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে

চুক্তির প্রথম বাস্তব প্রভাবগুলো দেখা দিতে শুরু করার সময়ই মোজতবার এই মন্তব্য আসে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির চারপাশে সামুদ্রিক অবরোধ সংক্রান্ত সব অভিযান স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, এখন আর ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না।

এদিকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরানও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, জাহাজগুলোকে দ্রুত চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে এবং আগামী ৬০ দিনের জন্য প্রণালি ব্যবহার ফি মওকুফ করা হবে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই চুক্তি একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো, চূড়ান্ত সমাধান নয়। এতে দুই পক্ষ সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
 

LEAVE A REPLY