ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচার শুরু আজ অনলাইন ডেস্ক প্রকাশ: ০৬ জুলাই, ২০২৬ ১১:১৩ ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচার শুরু আজ ছবি: রয়টার্স ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে আনা অভিশংসন অভিযোগের বিচার শুরু হচ্ছে আজ সোমবার। এ জন্য দেশটির সিনেট অভিশংসন আদালত হিসেবে বসবে। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে সারা দুতের্তের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই এই বিচার শুরু হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বিচার দেশটির রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। বিচার শুরুর আগে রাজধানী ম্যানিলায় সিনেট ভবন ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে ছয় হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষিত বিশেষ বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বিচার শুরুর দিন সারা দুতের্তের সমর্থক ও বিরোধী- উভয় পক্ষই বিক্ষোভ করতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের দেখা বিচার-সংক্রান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিচার শুরুর দিনে সারা দুতের্তে অথবা তার আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত থাকতে পারবেন। পুরো বিচারপ্রক্রিয়া ৯২ দিন চলার কথা রয়েছে। সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি স্থায়ীভাবে সরকারি যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের অযোগ্য হয়ে যেতে পারেন। এতে ২০২৮ সালে তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনাও বড় ধাক্কার মুখে পড়বে। ওই নির্বাচনেই প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের ছয় বছরের মেয়াদ শেষ হবে। ভাইস প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অজানা উৎস থেকে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া গোপন রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট মার্কোসকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে সারা দুতের্তে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিচার শুরুর আগে তিনি অভিযোগগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে দিতে রাজি হননি। তাঁর সমর্থকদের দাবি, প্রেসিডেন্ট মার্কোস ও তাঁর রাজনৈতিক মিত্ররা পরিকল্পিতভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সিনেট সদস্যদের রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ও সারা দুতের্তে একই জোট থেকে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন। সে সময় ফিলিপাইনের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই রাজনৈতিক পরিবারের সমর্থন একত্রিত করতেই এই জোট গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সারা দুতের্তে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের মেয়ে। রদ্রিগো দুতের্তে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) নির্দেশে গ্রেপ্তার হন। পরে তাকে নেদারল্যান্ডসের হেগে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আটক রয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আগামী ৩০ নভেম্বর তার বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। রদ্রিগো দুতের্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল ভিত্তি তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযান। ওই অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হন। নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন দরিদ্র এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল, পশ্চিমা দেশ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। যদিও রদ্রিগো দুতের্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সারা দুতের্তের অভিযোগ, তার ৮১ বছর বয়সী বাবাকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের হাতে তুলে দেওয়ার পেছনে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের ভূমিকা রয়েছে। দুই পরিবারের পররাষ্ট্রনীতিতেও বড় পার্থক্য রয়েছে। প্রেসিডেন্ট মার্কোস ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করেছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের বাড়তে থাকা তৎপরতার বিরোধিতা করে আসছে তার সরকার। আরো পড়ুন চীনের হুমকির মুখে ‘কমিউনিস্টবিরোধী’ শিক্ষা ফিরল তাইওয়ানে চীনের হুমকির মুখে ‘কমিউনিস্টবিরোধী’ শিক্ষা ফিরল তাইওয়ানে অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনী ফিলিপাইনের নৌবাহিনী ও জেলেদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জলকামান ব্যবহার করলেও সারা দুতের্তে প্রকাশ্যে তার নিন্দা করেননি। এ কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। গত মাসে ফিলিপাইনের প্রতিনিধি পরিষদে বিপুল ভোটে সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হয়। প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের সমর্থকদেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সারা দুতের্তেকে দোষী সাব্যস্ত করতে ২৪ সদস্যের সিনেটে অন্তত ১৬ জন সিনেটরের সমর্থন লাগবে। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেলেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং সরকারি পদে থাকার অধিকার হারাতে পারেন। এদিকে বিচার শুরুর আগেই দুতের্তে-সমর্থক কয়েকজন সিনেটর আইনি সমস্যায় পড়েছেন। দুতের্তে-ঘনিষ্ঠ সিনেটর জিংগয় এস্ট্রাডাকে গত মাসে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য দুর্নীতির মামলা হয়েছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দুতের্তে-সমর্থক আরেক সিনেটর রোদান্তে মারকোলেতার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের নির্বাচনী অনুদান গ্রহণ এবং সম্পদের ঘোষণায় সেই অর্থ গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনিও কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ছাড়া সাবেক জাতীয় পুলিশপ্রধান ও বর্তমান সিনেটর রোনাল্ড দেলা রোসা আত্মগোপনে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রদ্রিগো দুতের্তের আমলের হত্যাকাণ্ডে সহঅভিযুক্ত হিসেবে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। দুতের্তের মাদকবিরোধী অভিযান বাস্তবায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। google newsকালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন Add as a preferred source on GoogleGoogle-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন গাজার শাসনভার ছেড়ে দিল হামাস অনলাইন ডেস্ক প্রকাশ: সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬ ২০:০২ | আপডেট: সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬ ২০:০৯ গাজার শাসনভার ছেড়ে দিল হামাস সংগৃহীত ছবি গাজায় নিজেদের প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে হামাস। এর মাধ্যমে সেখানে একটি টেকনোক্র্যাট কমিটির বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে হামাসের একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর ইউরোনিউজ ২০০৭ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ফাতাহর কাছ থেকে সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে দীর্ঘ দুই দশক ধরে উপত্যকায় নিজেদের শাসন বজায় রেখেছিল হামাস। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০০৬ সালের আইনসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল তারা। গত বছরের অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই হামাস বারবার বলে এসেছে, তারা গাজার শাসনভার ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। তবে সংগঠনটি নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে নেই। হামাসের সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-তাওয়াবতা একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, ‘সরকারের জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ গাজার (এনসিএজি) কাছে প্রশাসনিক ও সরকারি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সহজ করতে এই কমিটি বিলুপ্ত করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।’ ২০২৫ সালের অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় এনসিএজি গঠন করে বোর্ড অব পিস। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, ‘হামাস একটি নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে যার ফলে তারা আর গাজা উপত্যকার দায়িত্বে থাকবে না। দখলদার বাহিনীর আগ্রাসন ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সব অজুহাত বন্ধ করতেই এই সিদ্ধান্ত।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা আশা করছি ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ গাজা দ্রুত সেখানে প্রবেশ করবে। এই কমিটির সাফল্য নিশ্চিত করতে হামাস সব ধরনের সরকারি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ হামাসের প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্তির ফলে ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট আলি শাথের নেতৃত্বাধীন এনসিএজি’র জন্য গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব নেয়ার পথ উন্মুক্ত হলো। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে এই কমিটির প্রবেশে ইসরায়েলের আপত্তির কারণে গত কয়েক মাস ধরে এনসিএজি গাজার বাইরে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের অগ্রগতি ও পারস্পরিক মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো বেশ কয়েক দফা আলোচনা করেছে। চুক্তির প্রথম ধাপে হামাসের হাতে থাকা সর্বশেষ ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি গত কয়েক মাস ধরে স্থবির হয়ে আছে। এই ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা ছিল। ‘বোর্ড অফ পিস’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের অগ্রগতির এই স্থবিরতার জন্য হামাসই দায়ী। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) হামাস এবং ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়িয়ে হামাসের পলিটব্যুরো সদস্যদেরও এর আওতাভুক্ত করেছে। তবে বাস্তব চিত্র হচ্ছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকায় তাদের উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে। বর্তমানে তারা উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। আর যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে এখনও গাজায় হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে তারা। সবশেষ সোমবার (৬ জুলাই) ইসরায়েলের নির্বিচার বিমান হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত ও ২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া-ফিজির নিরাপত্তা চুক্তির পরই প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অনলাইন ডেস্ক প্রকাশ: সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৪৯ অস্ট্রেলিয়া-ফিজির নিরাপত্তা চুক্তির পরই প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ছবি : রয়টার্স চীন একটি ডামি ওয়ারহেড বহনকারী দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রশান্ত মহাসাগরে পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করেছে। অস্ট্রেলিয়া ও ফিজি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই পরীক্ষা চালানো হয়। বেইজিং একে চীনের বার্ষিক সামরিক কর্মসূচির ‘নিয়মিত অংশ’ বলে বর্ণনা করেছে। তবে এই পদক্ষেপে জাপান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অস্ট্রেলিয়া অভিযোগ করেছে, চীনের এ ধরনের কর্মকাণ্ড অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য নেতিবাচক। তবে দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা মনে করেন না যে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অস্ট্রেলিয়া-ফিজি নিরাপত্তা চুক্তির সরাসরি প্রতিক্রিয়া। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করতে কাজ করছে অস্ট্রেলিয়া। এর লক্ষ্য হলো অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও সামরিক উপস্থিতির ভারসাম্য রক্ষা করা। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস জানান, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে চীন তাদের পরিকল্পনার কথা ক্যানবেরাকে জানিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করতে পারে, এমন যেকোনো পদক্ষেপ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’ চীনা কর্মকর্তারা নিউজিল্যান্ড, জাপান, পাপুয়া নিউগিনিসহ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশকে সমুদ্রভিত্তিক সামরিক মহড়ার পরিকল্পনার বিষয়েও অবহিত করেছেন। নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। জাপান জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রায় ৯০ মিনিট আগে তারা এ বিষয়ে অবহিত হওয়ার পর চীনকে এই পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনার জন্য জোরালোভাবে অনুরোধ করেছিল। চীন বলেছে, দুই বছর পর পরিচালিত এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা তাদের নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে করা হয়নি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘উৎক্ষেপণ কার্যক্রম নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত এবং পেশাদারভাবে পরিচালিত হয়েছে। আমরা আশা করি, কিছু দেশ বিষয়টিকে অতিরঞ্জিতভাবে ব্যাখ্যা করবে না।’ ফিজির রাজধানী সুভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেন, চীনের দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অঞ্চলটির স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অস্ট্রেলিয়া ও ফিজি এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ওশান অব পিস অ্যালায়েন্স’ নামে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এটি ফিজির প্রথম আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোট এবং অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ এমন চুক্তি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড ও পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার একই ধরনের চুক্তি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ জানান, এই চুক্তির আওতায় আগামী ১০ বছরে ফিজিতে আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করবে অস্ট্রেলিয়া। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় আলবানিজ বলেন, এটি অন্য কোনো দেশের সঙ্গে ক্যানবেরার নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর একটি। ফিজির প্রধানমন্ত্রী সিটিভেনি রাবুকা এই চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। শ্রীলঙ্কায় কারাগারে দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ অনলাইন ডেস্ক প্রকাশ: সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৪ | আপডেট: সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭ শ্রীলঙ্কায় কারাগারে দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ ছবি : রয়টার্স শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বন্দি গোষ্ঠীর মধ্যে দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আরো অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছে। দেশটির রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরের উপকূলীয় শহর নেগোম্বোর একটি কারাগারে রোববার সাজাপ্রাপ্ত ও আটক বন্দিদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, কারাগারের বিভিন্ন অংশ এখনো তল্লাশি ও পরিষ্কার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং একটি হাসপাতাল সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সোমবার বন্দিদের দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার ওয়ারুনা গামাগে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেরানা টিভির প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, আহত বন্দিদের বহনকারী একটি পুলিশ বাস কারাগার ত্যাগ করছে। এ সময় কারাগারের প্রধান ফটকের বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। আহতদের কয়েকজনকে বাসের মেঝেতে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। খামেনির দাফন অনুষ্ঠান উপলক্ষে তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ অনলাইন ডেস্ক প্রকাশ: সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬ ১৬:০৮ খামেনির দাফন অনুষ্ঠান উপলক্ষে তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ ছবি : রয়টার্স। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান চলায় সোমবার তেহরানের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীর মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। মেহরাবাদ বিমানবন্দরে মঙ্গলবার থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আরো কিছু সময় বন্ধ থাকবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৯ জুলাই খামেনির চূড়ান্ত দাফন অনুষ্ঠান উপলক্ষে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের আকাশসীমাও বন্ধ রাখা হবে। এদিন শহরের শহীদ হাশেমিনেজাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। তবে ৭ ও ৮ জুলাই দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিমান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সর্বশেষ সংবাদ বিশ্বম্ভরপুরে বিদ্যুৎপৃষ্টে বাবা-মা ও ছেলের মৃত্যু দেশকে মার্কিন ‘করদ রাজ্যে’ পরিণত করার চক্রান্ত চলছে : সিপিবি নারায়ণগঞ্জে অটোরিকশাচালককে হত্যা করে গাড়ি ছিনতাই দেশের মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে : নাহিদ ইসলাম মান্নত পূরণ করতে নদী পার হতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু চরম বিপর্যয়ে ৮৭ দেশের প্রায় ২৬ কোটি শিশুর শিক্ষাজীবন ভারত থেকে এলো ৩ টন জিরা বাজেটে ছাড় ও সরকারি নীতিতে স্বস্তিতে প্লাস্টিকশিল্প : বিপিজিএমইএ সর্বাধিক পঠিত খেলা শেষ, খোদা হাফেজ : মাহফুজ আলম মাকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবককে গলা কেটে হত্যা করলো ৪ ভাই এক ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ, আজ বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনকে কেপিআই ঘোষণা বদলে যাচ্ছে ইনক্রিমেন্টের নিয়ম, গ্রেডভেদে যে হারে বাড়তে পারে বেতন পুলিশের শীর্ষ ৩৩ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে নতুন দায়িত্বে আইন, জ্বালানি ও বাণিজ্যমন্ত্রী নতুন পে স্কেলে বেতনের হার কমতে পারে, বৈঠক আজ মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন Google Play App Store অনুসরণ করুন আজকের পত্রিকা প্রথম পাতা খেলা শিল্প বাণিজ্য শেষের পাতা খবর দেশে দেশে অনলাইন জাতীয় শুভসংঘ বিনোদন সারাবাংলা বাণিজ্য খেলাধুলা বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা (প্রিন্ট ভার্সন) ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মেহেদী হাসান তালুকদার আমাদের সম্পর্কে শর্তাবলী গোপনীয়তা নীতি যোগাযোগ করুন স্বত্ব © ২০২৬ কালের কণ্ঠ ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচার শুরু আজ |

ছবি: রয়টার্স

ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে আনা অভিশংসন অভিযোগের বিচার শুরু হচ্ছে আজ সোমবার। এ জন্য দেশটির সিনেট অভিশংসন আদালত হিসেবে বসবে।প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে সারা দুতের্তের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই এই বিচার শুরু হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বিচার দেশটির রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিচার শুরুর আগে রাজধানী ম্যানিলায় সিনেট ভবন ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে ছয় হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।তাদের মধ্যে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষিত বিশেষ বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বিচার শুরুর দিন সারা দুতের্তের সমর্থক ও বিরোধী- উভয় পক্ষই বিক্ষোভ করতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের দেখা বিচার-সংক্রান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিচার শুরুর দিনে সারা দুতের্তে অথবা তার আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত থাকতে পারবেন। পুরো বিচারপ্রক্রিয়া ৯২ দিন চলার কথা রয়েছে। 

সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি স্থায়ীভাবে সরকারি যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের অযোগ্য হয়ে যেতে পারেন। এতে ২০২৮ সালে তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনাও বড় ধাক্কার মুখে পড়বে। ওই নির্বাচনেই প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের ছয় বছরের মেয়াদ শেষ হবে। ভাইস প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অজানা উৎস থেকে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া গোপন রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।এ ছাড়া প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট মার্কোসকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে সারা দুতের্তে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিচার শুরুর আগে তিনি অভিযোগগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে দিতে রাজি হননি। তাঁর সমর্থকদের দাবি, প্রেসিডেন্ট মার্কোস ও তাঁর রাজনৈতিক মিত্ররা পরিকল্পিতভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সিনেট সদস্যদের রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন।

২০২২ সালের নির্বাচনে ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ও সারা দুতের্তে একই জোট থেকে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন। সে সময় ফিলিপাইনের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই রাজনৈতিক পরিবারের সমর্থন একত্রিত করতেই এই জোট গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সারা দুতের্তে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের মেয়ে। রদ্রিগো দুতের্তে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) নির্দেশে গ্রেপ্তার হন। পরে তাকে নেদারল্যান্ডসের হেগে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আটক রয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আগামী ৩০ নভেম্বর তার বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

রদ্রিগো দুতের্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল ভিত্তি তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযান। ওই অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হন। নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন দরিদ্র এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল, পশ্চিমা দেশ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। যদিও রদ্রিগো দুতের্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সারা দুতের্তের অভিযোগ, তার ৮১ বছর বয়সী বাবাকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের হাতে তুলে দেওয়ার পেছনে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের ভূমিকা রয়েছে। দুই পরিবারের পররাষ্ট্রনীতিতেও বড় পার্থক্য রয়েছে। প্রেসিডেন্ট মার্কোস ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করেছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের বাড়তে থাকা তৎপরতার বিরোধিতা করে আসছে তার সরকার। 

অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনী ফিলিপাইনের নৌবাহিনী ও জেলেদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জলকামান ব্যবহার করলেও সারা দুতের্তে প্রকাশ্যে তার নিন্দা করেননি। এ কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। গত মাসে ফিলিপাইনের প্রতিনিধি পরিষদে বিপুল ভোটে সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হয়। প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের সমর্থকদেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সারা দুতের্তেকে দোষী সাব্যস্ত করতে ২৪ সদস্যের সিনেটে অন্তত ১৬ জন সিনেটরের সমর্থন লাগবে। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেলেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং সরকারি পদে থাকার অধিকার হারাতে পারেন।

এদিকে বিচার শুরুর আগেই দুতের্তে-সমর্থক কয়েকজন সিনেটর আইনি সমস্যায় পড়েছেন। দুতের্তে-ঘনিষ্ঠ সিনেটর জিংগয় এস্ট্রাডাকে গত মাসে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য দুর্নীতির মামলা হয়েছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দুতের্তে-সমর্থক আরেক সিনেটর রোদান্তে মারকোলেতার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের নির্বাচনী অনুদান গ্রহণ এবং সম্পদের ঘোষণায় সেই অর্থ গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনিও কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ছাড়া সাবেক জাতীয় পুলিশপ্রধান ও বর্তমান সিনেটর রোনাল্ড দেলা রোসা আত্মগোপনে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রদ্রিগো দুতের্তের আমলের হত্যাকাণ্ডে সহঅভিযুক্ত হিসেবে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। দুতের্তের মাদকবিরোধী অভিযান বাস্তবায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

LEAVE A REPLY