যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ব্যয়ের ধাক্কা, ভারতীয় প্রবীণের দেশের প্রশংসার পোস্ট ভাইরাল

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা নিতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এক ভারতীয় প্রবীণ। এক্স ব্যবহারকারী অধীর সিনহা তার পোস্টে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা খরচের বড় পার্থক্যের কথা তুলে ধরেছেন।পরে তার সেই পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

অধীর সিনহা জানান, তিনি ও তার স্ত্রী দুই মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ভারত থেকে নিয়ে যাওয়া তাদের ওষুধ শেষ হয়ে যায়। তার স্ত্রী ভারতে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ খেয়ে শ্বাসতন্ত্রের একটি সমস্যার চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছিলেন।তবে ওষুধ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। এরপর তারা যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকের কাছে যান। অধীর সিনহা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি খরচ হয়েছে। শুধু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ফি বাবদ তাদের প্রায় ২৩ হাজার রুপি বা ২৮৩ ডলার দিতে হয়েছে।এরপর চিকিৎসকের লেখা ওষুধ কিনতে আরো প্রায় ৪২ হাজার রুপি খরচ হয়। সব মিলিয়ে চিকিৎসার মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৬৫ হাজার রুপির বেশি।

তবে খরচের পাশাপাশি ওষুধ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হয় বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে লেখা ওষুধ সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ওষুধের দোকানে ওষুধ পৌঁছাতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগে।পরে ওষুধ হাতে পাওয়ার পর তিনি আরো অবাক হন। কারণ, ওষুধগুলো তৈরি করেছে ভারতেরই ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সিপলা। ওষুধের প্যাকেটে লেখা ছিল, ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ বা ভারতে তৈরি। নিজের পোস্টে অধীর সিনহা লেখেন, ভারতে যে ওষুধ সাধারণত যেকোনো ওষুধের দোকানে সহজেই পাওয়া যায়, সেই একই ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে পেতে তার ১২ দিন সময় লেগেছে। তিনি লিখেছেন, ‘এক সপ্তাহ পর চিকিৎসকের পরামর্শ ফি হিসেবে ২৮৩ ডলারের একটি বিল পাই, যা প্রায় ২৩ হাজার রুপির সমান। অবসর জীবন ভারতে কাটাতে পারছেন, এ জন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করুন।’

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রার সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন সুবিধার তুলনা করেন। তিনি বলেন, ভারতে চিকিৎসার খরচ তুলনামূলক কম এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো সহজ। এ ছাড়া কম খরচের মোবাইল ইন্টারনেট, দ্রুত নিত্যপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা, বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুবিধা, ইউপিআইভিত্তিক সহজ ডিজিটাল লেনদেন, গৃহকর্মীর সহজ প্রাপ্যতা এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্কের বিষয়গুলোও তিনি তুলে ধরেন। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘ভারত শুধু একটি দেশ নয়। এটি এমন এক চমৎকার পৃথিবী, যেখানে প্রতিটি পদে নানা ধরনের সুবিধা রয়েছে।’

অধীর সিনহার এই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেক ব্যবহারকারী বলেন, দৈনন্দিন চিকিৎসা ও ওষুধের ক্ষেত্রে ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি সাশ্রয়ী এবং সহজে পাওয়া যায়। আবার অনেকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিজ্ঞতা দেখায় যে সেখানে স্বাস্থ্যবিমা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকের পরামর্শ, বিভিন্ন পরীক্ষা এবং ওষুধের জন্য আলাদা আলাদা বিল দিতে হয়। ফলে বীমা না থাকলে চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি বেড়ে যেতে পারে। তবে কিছু ব্যবহারকারী এই তুলনার সঙ্গে পুরোপুরি একমত হননি। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে। এসব কারণেই সেখানে চিকিৎসার ব্যয় বেশি।

তাদের মতে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার পার্থক্য শুধু খরচের নয়; বরং দুই দেশের চিকিৎসা কাঠামো, সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থাপনার পার্থক্যের সঙ্গেও যুক্ত।
 

LEAVE A REPLY