ট্রাম্পের রিসোর্টের বিরুদ্ধে ‘ফ্লেমিংগো বিপ্লবে’ ডুয়া লিপার সমর্থন

আলবেনিয়ার একটি সংরক্ষিত দ্বীপে ট্রাম্প পরিবারের ১.৬ বিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল রিসর্ট নির্মাণ পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবিতে চলমান আন্দোলনে এবার সমর্থন জানিয়েছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা ডুয়া লিপা।

লন্ডনে জন্ম হলেও ডুয়া লিপার পারিবারিক শেকড় কসোভান আলবেনিয়ায়। সম্প্রতি ‘সার্ভিস ৯৫ বুক ক্লাব’ পডকাস্টে আলবেনীয় লেখক ও শিক্ষাবিদ লিয়া ইপির সঙ্গে আলাপকালে তিনি আন্দোলনকারীদের প্রশংসা করেন এবং একে ‘অনুপ্রেরণামূলক’ বলে উল্লেখ করেন।

ডুয়া লিপা বলেন, মানুষের প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে মুগ্ধ করেছে। তবে জনমত উপেক্ষা করে পরিবেশ সুরক্ষার আইন পরিবর্তনের সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, জনগণের মতামত ছাড়াই পরিবেশগত সুরক্ষা দুর্বল করার নীতি গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত হয়েছে আলবেনিয়ার জনবসতিহীন সাজান দ্বীপ। একসময় স্নায়ুযুদ্ধের সময় দ্বীপটি সামরিকভাবে সংরক্ষিত ও নিষিদ্ধ এলাকা ছিল। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ একর জমিজুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে এই মেগা রিসর্ট, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প, তার স্বামী জ্যারেড কুশনার এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের একটি জোট।

আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা প্রকল্পটির জোরালো সমর্থক। তবে রাজধানী তিরানায় পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রামার পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়েছে।

পরিকল্পিত রিসর্টটি বুনো সমুদ্রসৈকত, বনাঞ্চল এবং ভিয়োসা-নার্তা লেগুন ঘিরে নির্মিত হবে। এই অঞ্চল প্রায় ৩ হাজার ফ্লেমিংগো পাখির আবাসস্থল হওয়ায় আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘ফ্লেমিংগো বিপ্লব’।  

নির্মাণকাজ সহজ করতে সরকার ওই এলাকার সংরক্ষিত পরিবেশগত মর্যাদা কমিয়ে দিয়েছে। এরপর থেকেই প্রকল্পটি দেশের অন্যতম বিতর্কিত রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন দাবি করছে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ চুক্তির পরিপন্থী।

তবে প্রধানমন্ত্রী এডি রামা এসব সমালোচনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। গত মাসে তিনি প্রকল্পটিকে ‘অসাধারণ’ আখ্যা দিয়ে যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।

অন্যদিকে, ইভাঙ্কা ট্রাম্পও প্রকল্পটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। মে মাসে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি রিসর্টটিকে ‘বিশাল’ এবং ‘অসাধারণ সুন্দর’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, কয়েক বছর আগে একটি বিলাসবহুল ইয়ট থেকে উপকূলটি দেখার পরই তিনি ও জ্যারেড কুশনার সেখানে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেন।

এদিকে, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট জমি বিক্রির ঘটনায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মিয়ামিভিত্তিক ব্যবসায়ী আরতুর শেহু গত এপ্রিলে বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর কাছে উপকূলীয় এলাকার একটি অংশ বিক্রি করেন। সে সময় তিরানায় প্রকল্পবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল।

আলবেনিয়ার প্রসিকিউটররা শেহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। তার বিরুদ্ধে ইউরোপে মাদক পাচার, অবৈধ অর্থ পাচার এবং প্রকল্পের জমির মালিকানা সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তবে শেহু সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে, প্রকল্প এলাকার সবচেয়ে কাছের গ্রাম জভারনেকের বাসিন্দারা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আদালতে শেহুর জমির মালিকানা দাবি চ্যালেঞ্জ করে আসছেন।

উল্লেখ্য, ডুয়া লিপার বাবা-মা আনেসা ও দুকাগজিন ১৯৯২ সালে কসোভো থেকে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেন। ১৯৯৫ সালে লন্ডনে জন্ম নেওয়া ডুয়া পরে পরিবারের সঙ্গে কসোভোতে ফিরে গেলেও মাত্র ১৫ বছর বয়সে সংগীতজগতে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে একাই লন্ডনে ফিরে যান। বর্তমানে তিনি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পপ তারকা।

LEAVE A REPLY