মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশের ভূমি দখলে নিচ্ছে ইসরাইল। যুদ্ধের মাধ্যমে এসব অঞ্চল দখলের পর সেখানে সেনা মোতায়েন করে রাখছে। বিশেষ করে নিরাপত্তার অযুহাত দেখিয়ে বাফার জোন বা নিরাপত্তা এলাকা তৈরির নামে তারা এটা করছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজা ও লেবাননে যুদ্ধের মাধ্যমে বড় এলাকা দখলে নেয় ইসরাইল। গাজা ভূখণ্ডের অর্ধেকের বেশি এলাকা এখন ইসরাইলের দখলে। সেখানে বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।
কথিত হলুদ রেখা দিয়ে একাংশকে আলাদা করে ২০ লাখের বেশি বাসিন্দাকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী সৈকতের বালুময় প্রান্তরে। সেখানে জরাজীর্ণ তাঁবুতে ঘনবসতি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করছেন ফিলিস্তিনিরা।
তাদের বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে; ফসলের জমি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। যেখানে একসময় স্ট্রবেরি বা জলপাইয়ের বাগান ছিল, সেখানে এখন সেনাঘাঁটি, ট্যাংকের বিচরণ। ইসরাইল দখলে নিয়েছে লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চলও। অন্তত ৫০০ বর্গকিলোমিটারের মতো এলাকা এখন ইসরাইলি বাহিনীর দখলে। আল-জাজিরা জানায়, দক্ষিণ লেবাননে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ৬ লাখ মানুষ।
বাড়িঘরসহ পুরো গ্রাম গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সিরিয়ার গোলান উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নিয়েছে ইসরাইল। ২০২৪ সালে বাশার আল আসাদ সরকারের পতনের সুযোগে তারা এসব এলাকা দখলে নেয়।
এর আগে ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের সময় গোলানের ওই এলাকা ইসরাইল দখলে নিয়েছিল। সবমিলিয়ে ১ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ইসরাইলের দখলে রয়েছে।
এসব এলাকা, বিশেষ করে লেবাননের ভূমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিচ্ছে ইসরাইলকে। বৃহস্পতিবার দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানায়, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছে-তারা লেবানন, সিরিয়া ও গাজার দখলকৃত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’গুলোতে নিজেদের সেনা মোতায়েন বজায় রাখবে।
গত বুধবার রাতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ এক কথোপকথনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে জানান, লেবানন, সিরিয়া ও গাজার দখলকৃত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’গুলোতে নিজেদের বাহিনী বজায় রাখার বিষয়ে ইসরাইল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।








































