ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ আশপাশের এলাকায় রাশিয়া ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বর্ষণ করেছে। ২০ আগস্ট রাতভর এই হামলায় আবাসিক ভবন, শিশু হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ইন্টারসেপটর সংকটের কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটময় হয়ে উঠেছে।
গত কয়েক মাসে ইউক্রেনের রাজধানীর পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। কারণ দেশের অভ্যন্তরে যুদ্ধ আরো তীব্রভাবে ফিরে এসেছে।রাশিয়ার দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিয়মিত শহরটিকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর কাছে সেগুলোকে প্রতিহত করতে সক্ষম একমাত্র আকাশ প্রতিরক্ষার মার্কিন প্যাট্রিয়ট ফুরিয়ে গেছে। এতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির উদ্বেগ আরো গভীর হয়েছে।
কিয়েভের বাসিন্দা সোফিয়া বলেন, ‘আগে বিমান হামলার সতর্কতা শুনলে জিনিসপত্র গুছিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যেত।এখন সতর্কতা পাওয়ার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই বিস্ফোরণ হয়, তাই কোনো সময়ই পাওয়া যায় না।’
শুক্রবার রাত ১১টা ৫১ মিনিটে প্রথম সতর্কতা পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই শহরটিকে লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। শহরতলির আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এরপর আরো বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে ড্রোন হামলার সতর্কতা জারি থাকায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরো বেড়ে যায়।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়াবহ পরিণতি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল আবাসিক এলাকাগুলোতে।শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে পশ্চিমে সলোমিয়ানস্কি জেলায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে; এতে দশতলা অ্যাপার্টমেন্ট ধসে দুইজনের প্রাণহানি ঘটে।
ইভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেন, ‘শহরের ওপর এই হামলাগুলোর একটাই উদ্দেশ্য – মানুষকে হতাশায় নিমজ্জিত করা।’
শহরের কেন্দ্রস্থলে বসবাসকারী মারিয়া হ্লাজুনোভা বলেন, ‘আমরা বিদ্যুৎ এবং কেন্দ্রীয় তাপনব্যবস্থা ছাড়াও মানিয়ে নিতে প্রস্তুত – আমরা আমাদের প্রস্তুতি সেরেছি, অ্যাপার্টমেন্টটি প্রস্তুত করেছি এবং গত ভয়াবহ শীতটাও কাটিয়ে দিয়েছি। কিন্তু পানি… আমার ভয় হচ্ছে যে ঠিকমতো হাত ধোয়া এবং খাবার তৈরি করার সুযোগ হয়তো পাব না।’
বোরিসপিল বাণিজ্যিক বিমানবন্দরের কাছে একটি খাদ্য বিতরণ গুদাম ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। একের পর এক ড্রোন সতর্কবার্তার কারণে জ্বালানিকর্মীরা সেখানে পৌঁছাতে পারেননি, যার ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
বিকেলে যখন দ্য গার্ডিয়ানের সংবাদ টিম সেখানে গিয়েছিল, তখনো পুড়ে যাওয়া স্থানটির কিছু অংশ থেকে ধোঁয়া উঠছিল। হাতেগোনা কয়েকজন কর্মচারী ছিলেন, যারা বুঝতে পেরেছিলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে গেছে।
কিয়েভ অঞ্চলের জরুরি পরিষেবার মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া রুবান জানিয়েছেন, আগে রুশরা রাতে কিয়েভ অঞ্চলে হামলা চালাত। আর এখন প্রায় তিন-চার ঘণ্টা পর পরই বিপৎসংকেতের সাইরেন বেজে ওঠে। এতে হামলার পর উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে যায়।’











































