ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে টাকার বিনিময়ে তাসের মাধ্যমে জুয়া খেলার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে জুয়ার আসরে অভিযান চালাতে গেলে পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার আঙুল ভেঙে যায়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার চার পুলিশ সদস্যকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার গভীর রাতে ঠাকুরগাঁও সদর থানার টহলদল গোপন সূত্রে খবর পায়, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়ায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মূল ভবনের উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাস দিয়ে জুয়া খেলছেন। খবর পেয়ে রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলমগীর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ার আসরে থাকা সদস্যরা ধাক্কাধাক্কি করে পালানোর চেষ্টা করেন।ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানার ডান হাতের আঙুল ভেঙে যায়। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে পুলিশ ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
তারা হলেন- ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), এএসআই শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. আলমগীর কবির (৩৩) এবং ঠাকুরগাঁও শহর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)।অভিযানের সময় সুযোগ বুঝে দুই পুলিশ সদস্য পালিয়ে যান। তারা হলেন- পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮)। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থল ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জুয়ার বোর্ডে থাকা নগদ ৫০ টাকা, পাঁচ সেট তাস এবং একাধিক স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থলের পাশ থেকে চারটি মোটরসাইকেল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানার এসআই মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা রুজু করা হয়। মামলাটি ২০২৬ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইনের ১৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারায় করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে পরিদর্শক (তদন্ত) সুজিত কুমার পালকে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা সুজিত কুমার পাল বলেন, আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ বা অন্য যে কারও ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধে জড়িত গ্রেপ্তার চার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।










































