প্রতীকী ছবি
যেকোনো সামাজিক উৎসব কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আয়োজনের কমতি রাখা হয় না। এর মধ্যে নানা কিছু থাকলেও একাংশ মাত্রাতিরিক্ত উচ্চ শব্দ কিংবা বিকট শব্দে আয়োজন উপভোগ করেন।যা অধিকাংশ মানুষেরই ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আশপাশে থাকা মানুষদের ঘুমানো, কাজ করা, পড়ালেখা ও চিকিৎসাধীন নাগরিকদের মানসিকভাবে আঘাত করে থাকে। বিকট শব্দ কি শুধু এসব সমস্যাই সৃষ্টি করে? খবরইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
না, এর থেকে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে―বিকট শব্দের কারণে হৃদযন্ত্রের ঝুঁকিও বাড়ে। ভারতের পুণের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিজয় নটরাজন জানিয়েছেন, লাউডস্পিকার, ঢোল-বাদ্য, পটকা ও আতশবাজি থেকে আসা অতিরিক্ত বিকট শব্দ শরীরের ওপর একটি শারীরিক মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তি এবং যারা উচ্চ রক্তচাপ, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্ট ফেইলিউর বা হৃদস্পন্দনজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাদের বেশি সমস্যায় ফেলে।
ডা. বিজয় নটরাজন বলেন, সমস্যা শুধু শ্রবণশক্তির ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হঠাৎ তৈরি হওয়া বিকট শব্দ শরীরের জন্য শারীরিক চাপ হিসেবে কাজ করে থাকে। যা সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুযন্ত্র ও স্ট্রেস হরমোনকে সক্রিয় করে।এ কারণে সাময়িকভাবে রক্তচাপ, হৃদস্পন্দনের গতি ও হৃদযন্ত্রের কাজের চাপ বেড়ে যায়।
এ চিকিৎসক আরও বলেন, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে সিমপ্যাথেটিক কার্যক্রম ও রক্তচাপ আরও বাড়তে পারে। সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বা দীর্ঘস্থায়ী শব্দদূষণ হৃদস্পন্দনের অনিয়মিত বা অ্যারিথমিয়া সৃষ্টি করতে পারে বা বিদ্যমান সমস্যা অধিকতর জটিল করতে পারে।
এ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের মতে―পুনরায় বা দীর্ঘ সময় ধরে শব্দের সংস্পর্শে থাকা হলে উচ্চ রক্তচাপ, করোনাকারি বা ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে দেখা গেছে গবেষণায়।
- অসুস্থদের জন্য অতিরিক্ত শব্দ কেন বেশি ক্ষতিকর
অনেক মানুষ আছেন যারা আগে থেকেই অসুস্থ, বিশেষ করে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলারের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে উচ্চ শব্দ শরীরের স্বাভাবিক স্ট্রেস রেসপন্স বা মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়াকে উত্তেজিত করতে পারে।
হঠাৎ সৃষ্ট বিকট শব্দ স্বাভাবিকভাবেই মানুষকে চমকে দিতে পারে। এ কারণে অ্যাডেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়। যা সাময়িকভাবে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়ায় এবং হৃদযন্ত্রে অক্সিজেনের চাহিদা তৈরি করে থাকে।
ডা. বিজয় নটরাজন জানিয়েছেন, করোনাকারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত গুরুতরদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শারীরিক চাপ বুকে ব্যথা বা অন্যান্য তীব্র হৃদরোগের উপসর্গ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন বয়স্ক ব্যক্তিরা। কেননা, তাদের উচ্চ রক্তচাপ, করোনাকারি আর্টারি ডিজিজ, হার্ট ফেলিইউর বা হৃদস্পন্দনের অনিয়মিত থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এই সম্ভাবনা শুধু বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং যারা আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত বা জটিল অসুখ থেকে সুস্থ হয়েছেন কিংবা যাদের অল্পতেই ঘুমের সমস্যা হয়, তারাও বিকট শব্দের কারণে ক্ষতির শিকার হয়ে থাকেন।
- হঠাৎ বিকট শব্দে ক্ষতি বেশি
বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশের স্বাভাবিকের থেকে বেশি মাত্রায় শব্দ হয়। টানা শব্দের থেকে হঠাৎ তীব্র ও অনিয়মিত শব্দের জোরও বেশি থাকে। বিশেষ করে রাতে যদি কিছুক্ষণ পরপর এমন হয়, তাহলে ঘুমের ব্যাপক সমস্যা হয়। রাতে বারবার ঘুম ভেঙে গেলে সিমপ্যাথেটিক কার্যকারিতা বেড়ে যায় এবং ঘুমের সময় স্বাভাবিকভাবে রক্তচাপ কমে যায়, এতে বাধা সৃষ্টি হয়।
- কারা বেশি সতর্ক থাকবেন
অনেকেরই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেই, আগেও হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, গুরুতর করোনাকারি আর্টারি ডিজিজ, বুক ব্যথা (এনজাইনা), হার্ট ফেইলিউর বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন থাকা ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। সদ্যই হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার হয়েছে বা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তি, আগে স্ট্রোক করেছেন, শারীরিক দুর্বল বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের ব্যাপকভাবে ঘুমের সমস্যা, তাদেরও বিকট শব্দের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এ ছাড়া ধাতব পাত্র ব্যবহারে মাইক্রোওয়েভ খাবারকে সমানভাবে গরম করতে পারে না। কারণ ধাতু তরঙ্গ প্রতিফলিত করে, ফলে খাবারের কিছু অংশ ঠান্ডা থেকে যেতে পারে।











































