পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের মেয়ে মাহনূর সাফদারের বিয়ে হয়েছে। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি জাব্বার খালিদের ছেলে আজান জাব্বারের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিসরে নিকাহ সম্পন্ন হয়েছে তার।লাহোরে শরিফ পরিবারের বাসভবন জাতি উমরায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য ও অল্পসংখ্যক অতিথি।
মাহনূর পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নাতনি। তার বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর আলোচনায় এসেছে শুধু বর-কনের সম্পর্ক নয়, দুই পরিবারের পুরনো এক বন্ধুত্বের গল্পও। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।
যে বন্ধুত্বে তৈরি হয়েছিল পারিবারিক সম্পর্ক
মাহনূর ও শানজেহ আলি রোহালে আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েছেন এবং পরে তাদের বন্ধুত্ব আরো গভীর হয়। শানজেহর দাদা ও পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের সাবেক নেতা শেখ রোহালে আসগরও আগে এই বন্ধুত্বের কথা জানিয়েছিলেন।
তিনি জানান, মাহনূর ও শানজেহ প্রায়ই একে অন্যের বাড়িতে যাতায়াত করতেন।এই বন্ধুত্বের সূত্রেই দুই পরিবারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
এরপর মাহনূরের ভাই ও মরিয়ম নওয়াজের ছেলে জুনায়েদ সাফদারের সঙ্গে শানজেহর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাদের বিয়ে হয়। লাহোরে একাধিক আয়োজনে জমকালোভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই বিয়ে।
আর এবার কয়েক মাস পর নিজেই বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন মাহনূর।
.jpg)
আজানের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিসরে বিয়ে
মাহনূর ও আজানের নিকাহ জুনায়েদ ও শানজেহর বিয়ের তুলনায় বেশ ঘরোয়া পরিবেশে হয়েছে। জাতি উমরায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নওয়াজ শরিফ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং শরিফ পরিবারের অন্য সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আজান জাব্বার শিল্পপতি জাব্বার খালিদের ছেলে। তার পরিবারের ব্যবসা মূলত আটা ও ময়দা উৎপাদন খাতের সঙ্গে যুক্ত।
অন্যদিকে মাহনূর বরাবরই পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ের তুলনায় ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রেখেছেন। সম্প্রতি লন্ডনের এসওএএস বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করেছেন তিনি। বিয়ের কিছুদিন আগে তার সমাবর্তনেও যোগ দিয়েছিলেন মরিয়ম নওয়াজ।
বিয়ের সাজেও ছিল আভিজাত্যের ছাপ
ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে হলেও মাহনূরের সাজ নজর কেড়েছে। পাকিস্তানি ডিজাইনার নিদা আজওয়ারের তৈরি পোশাক পরেছিলেন তিনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছবিতে মাহনূরকে আইভরি, সোনালি, গোলাপি ও ফিরোজা রঙের কারুকাজ করা ব্রাইডাল পোশাকে দেখা গেছে। সঙ্গে ছিল হীরার গয়না। চুলের সাজও ছিল তুলনামূলক সাদামাটা।
শরিফ পরিবারের অনেক জমকালো বিয়ের তুলনায় মাহনূরের বিয়ের আয়োজন ছিল অনেকটাই সংযত। তবে সেই সরলতার মধ্যেও তার বিয়ের পোশাক ও সাজে ছিল আভিজাত্যের ছাপ।
সব মিলিয়ে মাহনূর সাফদারের বিয়ের গল্পে যেমন রয়েছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী এক পরিবারের নতুন অধ্যায়, তেমনই রয়েছে দুই তরুণীর বন্ধুত্ব থেকে তৈরি হওয়া দুই পরিবারের সম্পর্কের গল্প। যে বন্ধুত্ব একসময় জুনায়েদ ও শানজেহর বিয়ের পথ তৈরি করেছিল, এবার সেই বন্ধুত্বের মানুষটিই নিজে শুরু করলেন নতুন দাম্পত্য জীবন।











































