‘এক ভালোবাসা ও আফসোসের নাম সজীব’, নির্মাতার মৃত্যুতে খায়রুল বাসার

সংগৃহীত ছবি

নাট্যকার ও নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীবের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শোবিজ অঙ্গনে। মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।প্রিয় সহকর্মীকে হারিয়ে শোকাহত তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বন্ধুরা।

সজীবের সঙ্গে কাজের স্মৃতি স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া সেই বার্তায় তিনি জানান, সজীবের সঙ্গে একসঙ্গে সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

খায়রুল বাসার লিখেছেন, ‘কথা ছিল আমরা একদিন সিনেমা বানাব। কথা ছিল আমাদের আরো কতশত গল্প বলতে হবে। সেসব গল্প দর্শকের মনের অলিগলি ঘুরবে,  হারিয়ে যাবে না। অথচ আমার ভাইটাই হারিয়ে গেল, খুব অপ্রস্তুত করে চলে গেলো সে।শুরু থেকেই আমরা ভাই-বন্ধু ছিলাম। শত শত কিলোমিটার পথ হেঁটেছি আর কত পরিকল্পনা, কথা-কাটাকাটি, যুক্তি-তর্ক হলো! শুধু নীরবতার সময়টায় আমাদের মন চোখ বলেছে, আমরা ভালো কিছু করতে চাই। আমরা আমাদের ভালো চাই। আমরা আমাদের ভালোবাসি।’

বন্ধুকে হারানোর বেদনা প্রকাশ করে তিনি আরো লিখেছেন, ‘এক ভালোবাসা ও আফসোসের নাম হয়ে রইলেন নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব।এই আমাদের শেষ ছবি, আমাদের শেষ কাজ – ‘বকপক্ষীর পিরিতি’। এখনও কাজটা রিলিজ হলো না। ভাই আমার চলে গেলেন। আল্লাহ তায়ালা আপনি আমার ভাইকে শান্তিতে রাখুন। আপনারা আমার ভাইয়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করবেন।’

সজীবের মৃত্যুতে শুধু সহকর্মী নয়, তার নির্মিত নাটকের দর্শকরাও শোকাহত। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বেশ কিছু জনপ্রিয় নাটক নির্মাণ করেছেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘বিলোপ’, ‘বাবুই পাখির বাসা’, ‘রঙিন কাগজ’, ‘আধার’, ‘সিকিউরিটি গার্ল’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য’, ‘হাসি’, ‘বিকেল বেলার ছাদ’, ‘দুষ্ট মিষ্টি প্রেম’, ‘আদরের চাঁদ’, ‘জোড়া শালিকের ঘর’সহ আরো বেশ কিছু নাটক।

জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত কাজের সঙ্গেই ছিলেন মারুফ হোসেন সজীব। ‘বকপক্ষীর পিরিতি’ ছিল খায়রুল বাসারের সঙ্গে তার শেষ কাজ। ছবিটি এখনো মুক্তি পায়নি। তার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই নির্মাতা।

তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। সহকর্মীদের স্মৃতিতে এখন সজীবের সঙ্গে কাটানো দিন, আড্ডা, পরিকল্পনা আর অসম্পূর্ণ স্বপ্নগুলোই বারবার ফিরে আসছে।

LEAVE A REPLY