ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল আলবেনিয়া, পদত্যাগ করবেন না জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি : রয়টার্স

শিক্ষাব্যবস্থার অবহেলা, ব্যাপক দুর্নীতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রকল্পের জন্য দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল বিক্রির প্রতিবাদে আলবেনিয়ায় তুমুল সহিংস রূপ নিয়েছে শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ। রাজধানী তিরানায় পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের মাঝেও পদত্যাগের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী এডি রামা।

বৃহস্পতিবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজধানীর রাজপথ। বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবনের কাচ ভাঙচুর, আবর্জনা রাখার পাত্রে আগুন, ট্রাফিক লাইট ধ্বংস এবং ব্যারিকেড গড়ে তোলে। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও ওয়াটার ক্যানন ব্যবহার করে দাঙ্গা পুলিশ। সংঘর্ষের জেরে পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত করা হয় এবং পর্যটকদের সামনেই সেন্ট্রাল স্কান্দারবেগ স্কয়ারে বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ চালায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।রাজধানী ছাড়িয়ে শকোদ্রা, দুরেছ, এলবাসান, কুকেস ও ভালোরা শহরেও এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভের মূল কারণ আলবেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মনোরম উপকূলীয় জমি জ্যারেড কুশনারের একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট ডেভেলপারদের কাছে বিক্রি করা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাদের জমি অন্যায়ভাবে এই প্রকল্পের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে জীবনের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে পদে পদে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন শিক্ষার্থীরা।কিয়ারা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অপর নামই দুর্নীতি। পরিচিত লোক না থাকলে আপনি নিজের যোগ্যতায় কাজ পাবেন না।’

তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী এডি রামা পদত্যাগের আহ্বান উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমার দায়িত্ব হলো জনগণের কথা শোনা এবং আলবেনিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এখন পদত্যাগ করা মানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের ঐতিহাসিক সুযোগ থেকে আলবেনিয়ার জনগণকে বঞ্চিত করা।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বলকান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আলবেনিয়া ২০২৮ সালের মধ্যেই ইইউ-এর সদস্যপদ পাওয়ার দৌড়ে শীর্ষে রয়েছে।ইইউ মিশন থেকে এক বিবৃতিতে উভয় পক্ষকে সহিংসতা পরিহার করে ‘গঠনমূলক সংলাপে’ বসার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

LEAVE A REPLY