ব্রাজিলের আমাজন ও সাভানা অঞ্চলে বন উজাড়ের হার রেকর্ড পরিমাণ কমে এসেছে। সরকারি তথ্য ও স্যাটেলাইট উপাত্ত থেকে দেখা গেছে, বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কঠোর পরিবেশগত নীতির ফলেই এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে।২০৩০ সালের মধ্যে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও বন উজাড় সম্পূর্ণ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট লুলা।
স্যাটেলাইটের তথ্য অনুযায়ী বিবিসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এক বছরে আমাজনে বন উজাড়ের হার ৪১.৮ শতাংশ কমেছে, যা ১৯৮৮ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বড় হ্রাস। পাশাপাশি সাভানা অঞ্চল ‘সেরাদো’-তেও বন উজাড় কমেছে ২৩.৮ শতাংশ। তিন বছর আগে বামপন্থী রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ক্ষমতায় আসার পর পরিবেশ নজরদারি কঠোর করেন এবং অবৈধভাবে গাছ কাটার শাস্তি বাড়িয়ে দেন।তার পূর্বসূরি ডানপন্থী জাইর বলসোনারোর আমলে আমাজনে বন উজাড় ব্যাপকভাবে বেড়েছিল, যা লুলার আমলে এসে ৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। লুলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে আমাজনে অবৈধভাবে বন উজাড় সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে।
আগামী ২৫ অক্টোবর ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লুলার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও। জনমত জরিপে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।ফ্লাভিও জয়ী হলে তিনি বাবার নীতিগুলোই বজায় রাখবেন বলে ধারণা করা হলেও, আমাজনে সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বের বৃহত্তম রেইনফরেস্ট আমাজনের ৬০ শতাংশই ব্রাজিলে অবস্থিত। বায়ুমণ্ডলের বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে পৃথিবীকে শীতল রাখতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই বন অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। পরিবেশবিদ ও জলবায়ু সংস্থাগুলোর মতে, ব্রাজিলের এই ঐতিহাসিক অর্জন প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে বন উজাড় রোধ করা সম্ভব।











































