পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক চীনা নাগরিকদের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, ইউনিফর্ম পরা চার পুলিশ কর্মকর্তা এক সহযোগীর সঙ্গে মিলে ডাকাতি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৯ আগস্টের পর থেকে চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে এটি ছিল চতুর্থ ডাকাতির ঘটনা। এর মধ্যে তিনটি ঘটনায় অপরাধীরা নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল।দুটি ঘটনার তদন্তে কর্মরত পুলিশের সদস্যদের সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সর্বশেষ ঘটনায় পুলিশের পোশাক পরা একদল ডাকাত একটি বাড়িতে ঢুকে ২০ লাখ রুপি নগদ অর্থ এবং ১৫ হাজার রুপি মূল্যের একটি মোবাইল ফোন লুট করে। এ ঘটনায় পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারায় ডাকাতির মামলা করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই বাড়িতে দুই চীনা নাগরিক বসবাস করতেন।রাত প্রায় ২টা ২০ মিনিটে পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি বাড়ির ভেতরে ঢুকে কর্মচারীদের থাকার কক্ষে যান। সেখানে ঘুমিয়ে থাকা এক নিরাপত্তারক্ষী ও এক চালককে ডেকে বাইরে নিয়ে আসেন। পরে তাদের পুলিশের একটি গাড়ির কাছে নিয়ে যান।
গাড়িটিতে চারজন ছিল। তাদের মধ্যে তিনজন পুলিশের পোশাক পরা এবং অস্ত্রধারী ছিল।পরে তারা নিরাপত্তারক্ষী ও চালককে গাড়িতে তুলে বাড়ির ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর অস্ত্রধারীরা জানালা দিয়ে বাড়িতে ঢুকে দুই চীনা নাগরিককে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে। তারা বাড়ির ড্রয়িংরুমে ওই দুই নাগরিক, নিরাপত্তারক্ষী ও চালককে আটকে রেখে ২০ লাখ রুপি নগদ অর্থ লুট করে।
মামলা নথিভুক্ত করার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সিসিটিভি ফুটেজের সাহায্যে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। এরপর কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গত মাসে ইসলামাবাদে ডাকাতির একটি চক্র চালানোর অভিযোগে তিন কর্মরত পুলিশ সদস্য ও তাদের কয়েকজন সহযোগীর নাম উঠে আসে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বরের একটি ডাকাতির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তাদের জড়িত থাকার তথ্য সামনে আসে। ওই দিন পুলিশের পোশাক পরা অস্ত্রধারীরা জি-১০/৪ এলাকায় দুই চীনা নাগরিকের বাড়িতে ঢুকে ৮০ লাখ রুপি লুট করে নিয়ে যায়।











































