বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি : এএফপি
লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। জোটসঙ্গীদের নিয়ে আবারও সরকার গঠন করতে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। তাই পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা আছে কি না, তা নিয়ে ভাবছেন সবাই। এতে বাংলাদেশের ওপর প্রভাব কেমন পড়বে, তা নিয়ে কৌতূহলী অনেকেই।
ভারতে মুসলমানসহ সংখ্যালঘুদের প্রতি যে দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে বিজেপি, নতুন সরকার সেই একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করবে কি না, সেটি নিয়েও ভাবছে সবাই।
রাজনীতিক, সাবেক কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের কোনো ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা এখনই তারা দেখতে পান না।
ভারতের সরকার গঠনের জন্য ২৭২টি আসন দরকার হয়। বিজেপি এককভাবে এই পরিমাণ আসন না পাওয়ায় এখন তাদের জোট বা কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে হবে।
ফলে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশীদের সঙ্গে নতুন সরকারের সম্পর্ক এবং মুসলিমদের বিষয়ে বিজেপি সরকারের যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল তাতে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
বাংলাদেশের ওপর প্রভাব
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অনেক উন্নতি হয়েছে। সামনের দিনে আমরা সম্পর্ক আরো উন্নত করব। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যেসব বিতর্ক আছে সেগুলো সামনের দিনে কেটে যাবে।
’
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলতি মাসেই ভারত সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। দলের নেতাদের ধারণা, দেশটিতে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর এ সফরে উভয় পক্ষের সম্পর্ক আরো উন্নত হবে। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
বিশেষ করে ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির সরকার ক্ষমতায় আসার পর মোদি ও শেখ হাসিনার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদার হয়েছে বলেই অনেকে মনে করেন।
‘ভারত গণতান্ত্রিক ধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে নির্বাচনের মাধ্যমে।
অন্য দেশেও এ ধরনের গণতান্ত্রিক চর্চা ও জনমতের ইচ্ছার প্রতি তারা শ্রদ্ধা দেখাবে সেটাই আমরা আশা করি। কোন একটি বিশেষ দলের প্রতি অনুকম্পা নয় বরং দেশের জনগণের ইচ্ছাকে তারা সম্মান করে দেই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেবে, এটাই সবাই চায়’, বলছিলেন তিনি।
যদিও বিএনপির আরো দুজন নেতা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ভারতে সরকার পরিবর্তন হলেও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ের পরিবর্তন হয় না। সেখানে শুধু একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়াটা বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ে ভারত সরকারের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনার সূচনা করবে এমনটি তারাও মনে করেন না।
নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে?
বাংলাদেশ বিষয়ে ভারতের এখনকার যে পররাষ্ট্রনীতি সেটিতে কোনো পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন না বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এবং সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. তৌহিদ হোসেন।
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমি মনে করি, ভারতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট সরকার গঠন করলেও প্রতিবেশী নীতির ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হতো না।’
তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক সাহাব এনাম খান বলন, ভারতের এবারের নির্বাচন থেকে একটি বার্তা বিজেপি বা নরেন্দ্র মোদি পেয়েছেন, তা হলো ধর্মীয় ও সামাজিক সংখ্যালঘুদের জন্য তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আবার কোয়ালিশন সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য তার এত দিনকার কোনো কোনো নীতির বিষয়ে আপস করতে হতে পারে। বাংলাদেশের মতো ইনক্লুসিভ প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। সেটাই বিজেপির ভবিষ্যতের জন্য ভালো। আবার বাংলাদেশের ওপরও তার একটি প্রভাব পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে ধর্মীয় ও সামাজিক সংখ্যালঘুদের নিয়ে বিজেপি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এলে তার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশেও। এতে করে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা আরো কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্র : বিবিসি








































